কলকাতা 

বাম ছাত্র সংগঠন বনাম এভিবিপি খেলা জমে উঠেছে যাদবপুরে

শেয়ার করুন

মঙ্গলবার মাঝরাতে যাদবপুর ক্যাম্পাসে ঢুকে সব দেওয়াললিখন মুছে দিয়ে গিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভা ও পুলিশকর্মীরা, অভিযোগ এমনই। বুধবার উপাচার্য জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। চুনকামে মুছেছিল, চিত্রশিল্পী চিত্তপ্রসাদ ভট্টাচার্যের একটি ছবি। সমাজমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। মন্বন্তরের ছবি আঁকা চিত্তপ্রসাদের ছবি মুছে দেওয়াকে কার্যত বাঙালিসত্তায় আঘাত বলেই মনে করছিলেন অনেকে।

বৃহস্পতিবার সকালেই দেখা যায় চুনকাম করা দেওয়ালে ফিরছে হিটলার-মুসোলিনি-আরএসএসকে নিশানা করা স্লোগান। আর তার পরই নতুন করে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। কারা লিখল এ সব?

শুধু দেওয়াল লিখনই নয়। এর আগে দক্ষিণপন্থী কর্মী সংগঠনের তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাল্পনিক কথোপকথনের যে ব্যানার লাগানো হয়েছিল, বৃহস্পতিবার তারই পাশে দেখা যায় আর একটি ব্যানার। সেখানে দেখা যায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ছবি। তাঁকে উদ্ধৃত করে লেখা, “আরবদের যে ভূমি ইজ়রায়েল দখল করে রেখেছে, সেই ভূমি তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে…এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য ও বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

এসএফআই-এর তরফে অভিনব বসু বলেন, “কারা লিখেছে বলতে পারব না। আমাদের তরফে এমন কোনও স্লোগান লেখা হয়নি।” ডেমোক্রাটিক ইয়ুথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ডিওয়াইএসএ) অনুভব গুপ্ত বলেন, “আমরা লিখিনি, কিন্তু অবশ্যই যাদবপুরের ছাত্ররাই লিখেছেন। আমরা মনে করি না, ভুল কিছু লেখা হয়েছে। হিটলার-মুসোলিনির বিরুদ্ধে তো লেখাই উচিত। আর আরএসএস-ও তেমনই সন্ত্রাস ছড়ানো দল। তাদের বিরুদ্ধেও লেখাই উচিত।”

এরই মধ্যে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের তরফে শুরু হয়েছে মনীষীদের ছবি টাঙানো। তাঁদের দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উৎকর্ষকেন্দ্রে রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগরের ছবিই থাকা প্রয়োজন, বিদেশি কোনও মানুষের নয়। এ প্রসঙ্গে এবিভিপি-র সদস্য আদিত্য মণ্ডল বলেন, “বৃহস্পতিবার আমরা বন্দে মাতরম্‌ যাত্রা করছি। এর পর ক্যাম্পাস জুড়ে আমরা ভারতীয়, মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের ছবি টাঙাব। ঋষি অরবিন্দ থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর সকলের ছবিই থাকবে।” তিনি দাবি করেন, এরই মাধ্যমে তাঁরা যাদবপুরের ‘লাল আবহাওয়া’ কাটিয়ে জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করবেন।

কিন্তু কী ভাবে রাতারাতি দেওয়ালের চেহারা বদলে যাচ্ছে? বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যদিও কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি দেওয়াললিখন নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডলকে বার বার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

গত মঙ্গলবারই উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য দাবি করেছিলেন, তিনি মনে করেন না কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে এমন লেখালিখি হওয়া উচিত। তবে তিনি এ-ও মনে করেন, পড়ুয়াদের বাক্‌-স্বাধীনতা থাকার পরিসরও রয়েছে। তাই তিনি আবেদন করেছিলেন, যত্রতত্র দেওয়াললিখন না করে নির্দিষ্ট কিছু অংশে পড়ুয়ারা তাঁদের দাবি প্রসঙ্গে লেখালিখি করুন। এর পর মাঝরাতে মুছে দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দেওয়াললিখন। যদিও উপাচার্য বুধবার দাবি করেন, পুলিশ বা পুরসভা তাঁর অনুমতি নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেনি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ