About us

বাংলার জনরব মূলত সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসাবে ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে আত্মপ্রকাশ করে। সময়ের বিচারে প্রায় দশ বছর বয়স বাংলার জনরবের। কিন্তু দুঃখের হলেও সত্য ছোট পত্রিকা চালানোর ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা থাকে, সেই সব সমস্যাতেই আটকে যায়। আত্মপ্রকাশ লগ্নে বাংলার জনরবের শ্লোগান ছিল, নিরপেক্ষ নয়, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের পক্ষে। প্রথম সংখ্যাতেই আমরা বলছিলাম বামফ্রন্ট শাসনের অবসান শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। ২০০৯- এর লোকসভা নির্বাচনের প্রায় ৬ মাস আগেই বাংলার জনরবের সমীক্ষায় বলা হয়েছিল কংগ্রেস-তৃণমূল জোট হবেই এবং তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন দখল করবে। বামপন্থী অনেক নেতাই বাংলার জনরবের এই সমীক্ষার রিপোর্ট দেখে অট্টহাস্য করেছিলেন। কিন্তু আমাদের সমীক্ষার রিপোর্ট লোকসভা নির্বাচনের ফলের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

২০০৮ থেকে ২০১১ এই আড়াই বছর রাজ্যজুড়ে পরিবর্তনের যে ঝড় উঠেছিল, সেই ঝড়ে যখন সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় দিশেহারা, তখন কেরোসিন শিখার মতো আলো নিয়ে বাংলার জনরব পথ দেখিয়েছিল। যা সত্য তা প্রকাশ করতে কোনও সময়েই দ্বিধাবোধ করেনি। একই সঙ্গে যা মিথ্যা, তার মুখোশ উন্মোচন করেছে। ২০১১ সাল থেকে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে প্রচার চালানোর উদ্দেশ্যে সম্প্রীতি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে প্রতি বছর।
রাজনীতির ক্ষেত্রেও সমান স্বাচ্ছন্দ্যে বাংলার জনরব সজাগ দৃষ্টি নিয়ে পর্যালোচনা করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এলিট সমাজ থেকে। প্রফুল্ল কান্তি ঘোষ, বিধান চন্দ্র রায়, প্রফুল্ল সেন, অজয় মুখার্জি, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়, জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এঁরা সবাই অভিজাত, সম্ভ্রান্ত ও বনেদী বংশের সন্তান। চলনে, বলনে ষোলোআনা সাহেবি আদব কায়দা, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। এঁদের অনেকেরই পড়াশুনা বিদেশে। মূলত, রক্তসূত্রে পাওয়া রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসাবে রাজনীতির ময়দানে এঁরা এসেছিলেন। আভিজাত্যকে সম্বল করে রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিসিক্ত হয়েছিলেন। পরে এঁরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার ৬৪ বছর পর যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেন, তিনি প্রকৃত অর্থেই সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি। কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাসিন্দা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও রাজনৈতিক অতীত ছিলনা। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের এই মেয়েটির রাজনীতিতে আবির্ভাব হয়েছিল উল্কার মতো। বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মমতার যে গণ আন্দোলন, তাকে কুর্নিশ জানাতেই হবে। ৩৪ বছরের বাম শাসনের পতনের নেপথ্যে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণ আন্দোলন। অতি সাধারণ বাড়ির এই ব্রাহ্মন কন্যাটির জেদ এবং অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে এক অবিসংবাদী জননেত্রীতে পরিণত করেছে। তাঁর এই উজ্জ্বল সাফল্যে বাংলার জনরব বিশেষ সংখ্যা- জনতার ভাবনায় মমতা -২০১১ এবং জনতার ভাবনায় মমতা -২০১৬ প্রকাশ করেছে। এই দুটি সংখ্যাই বাংলার বুদ্ধিজীবী সমাজে প্রভাব ফেলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশায় নয়, বরং তাঁর লড়াইকে কুর্নিশ জানাতে ও প্রশাসনিক বিষয়ে পরামর্শ দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ।
নানা প্রতিবন্ধকতা এবং পত্রিকার পরিচালক ও সম্পাদক সেখ ইবাদুল ইসলাম শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারনে পত্রিকাটির নিরবিচ্ছিন্ন প্রকাশে ছেদ পড়ে। তবে বাংলার বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী, প্রাক্তন আমলা এবং শুভানুধ্যায়ীদের পরামর্শে আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দৈনিক নিউজ পোর্টালে পরিবর্তিত হয়েছে। এই পোর্টালটি পরিচালনা করার জন্য এগিয়ে এসেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবি সেখ আফতাবউদ্দিন সরকার, বিশিষ্ট গল্পকার সেখ আব্দুল মান্নান, বিশিষ্ট গবেষক বদরুদ্দোজা হারুণ, সেখ ইবাদুল ইসলাম ও সেখ মিজানুর রহমান। মূলত এই কয়েকজনের প্রচেষ্টায় এই নিউজ পোর্টালটি সংবাদ মাধ্যম হিসাবে মানুষের কথাকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তুলে ধরবে।
সংবিধান প্রদত্ত বাকস্বাধীনতার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সম্প্রীতি রক্ষায় এই নিউজ পোর্টালটি কাজ করে যাবে। নিরপেক্ষতার বড়াই নয়, বঞ্চিত, শোষিত, অত্যাচারিত মানুষের প্রকৃত মুখপত্র হওয়ার চেষ্টা করবে এই নিউজ পোর্টালটি। মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, মুজিবর রহমান, আক্রাম খান, মুজাফ্ফর আহমেদ, কাজী নজরুল ইসলাম, বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়, বরুণ সেনগুপ্ত, গৌরি কিশোর ঘোষরা সাংবাদিকতার যে আদর্শ স্থাপন করে গেছেন,  সেই আদর্শকে সামনে রেখেই বাংলার জনরবের নিউজ পোর্টালটি যাত্রা শুরু করছে। সংবাদ পরিবেশন করার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুরু দায়িত্ব পালন করবে এই পোর্টালটি। সংবাদ যেমন রং দেখে পরিবেশন হবে না, একইভাবে সাহিত্যের ক্ষেত্রেও লেখক নয়, লেখার মানই বিবেচ্য হবে।
এর পাশাপাশি থাকবে, ইতিহাস, ঐতিহ্য, বেকার ছেলে মেয়েদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ, বিশেষ ঘটনাপ্রবাহের উপর আলোচনার সঙ্গে থাকছে আলাদা ইউটিউব চ্যানেল। এক কথায় স্মার্ট ফোনের যুগে স্মার্ট নিউজ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করছি আমরা।