জেলা 

উৎসবের মরশুমে শোকের ছায়া! বাঁকুড়ার সোনামুখীতে বাবা ও স্ত্রীকে খুন করল যুবক, তদন্তে পুলিশ

শেয়ার করুন

উৎসবের মরশুমে শোকের আবহাওয়া। বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী থানা এলাকার লালবাবা মানাচর নামক জায়গায় এক ব্যক্তি বাবা ও স্ত্রীর গলা কেটে খুন করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদিকে স্ত্রীর মুন্ডু ধর থেকে আলাদা করে মন্দিরে রেখে এসেছে ওই ব্যক্তির। আর বাপের লাশ পড়েছিল বাড়িতে। স্ত্রীর দেহ পড়েছিল বাড়িতে। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনা দেখে এলাকাবাসী শিয়রে ওঠে। গ্রামবাসীরা এই খবর দেন সোনামুখী থানায় পুলিশ এসে উদ্ধার করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে যে ব্যক্তি খুন করেছেন স্ত্রী ও বাবাকে সে তন্ত্রসাধনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এক তান্ত্রিক ও নিয়মিত ওদের বাড়িতে আসতেন। তবে কেন এই ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখছে সোনামুখী থানা তদন্ত শুরু হয়েছে।

জানা গেছে,সোনামুখী থানার দামোদর নদের চরে রয়েছে লালবাবা মানাচর এলাকা। সেখানকার বাসিন্দা মঙ্গল চৌধুরী। বাড়িতে থাকতেন তাঁর স্ত্রী রুম্পা এবং বাবা রাজেন্দ্র চৌধুরী। তাঁদের বাড়ি সংলগ্ন একটা মন্দির রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ওই মন্দিরে রুম্পার কাটা মুন্ডু দেখে শিউরে ওঠেন এলাকাবাসী। খবর দেওয়া হয় সোনামুখী থানায়। পুলিশ এসে ওই বাড়ি থেকে দু’টি দেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মঙ্গল এবং তাঁর স্ত্রী রুম্পা দিনে প্রায়শই থাকতেন মন্দিরে। পুজার্চনা করতেন। কেউ কেউ এ-ও দাবি করেছেন, কোনও কোনও দিন কোনও বিশেষ তিথিতে মন্দিরে ওই দম্পতি বিবস্ত্র অবস্থায় পুজোও করতেন! কেন এমন করতেন তাঁরা? স্থানীয়দের দাবি, মাঝেমধ্যেই ওই বাড়িতে এক জন তান্ত্রিক আসতেন। তন্ত্র সাধনা করতেন। স্থানীয় বাসিন্দা দয়াল পাত্রের কথায়, ‘‘গ্রামের মানুষের সঙ্গে কোনও রকম বিবাদ ছিল না মঙ্গলের। ব্যবহারেও কোনও দিন অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়েনি। তবে বাড়িতে পুজার্চনা, তন্ত্র সাধনার পাঠ ছিল।’’ তন্ত্র সাধনার কারণেই এমন কাণ্ড হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়েরা।

বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার পিভিজি সতীশ বলেন, ‘‘দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে।’’ তাঁকে জেরা করে এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মত তদন্তকারীদের।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ