ক্লাসে উপস্থিত না হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার আবদার! সারারাত ধরে ঘেরাও থাকার পর পদত্যাগ করলেন সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের উপাধ্যক্ষ!
বাংলার জনরব ডেস্ক : ক্লাসে অনিয়মিত উপস্থিত হয়েও পরীক্ষা দেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার সারারাত ধরে কলকাতার শিয়ালদহে অবস্থিত সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের উপাধ্যক্ষকে ঘেরাও করে রাখেন পড়ুয়ারা। শুক্রবার দুপুরে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করলেন উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তরন্নুম। যদিও বিক্ষোভ ওঠেনি প্রায় দুপুর ১টা পর্যন্ত।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার। সে দিনই পড়ুয়ারা কলেজে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, উপস্থিতির হার ৪০ শতাংশের নীচে থাকার কারণে বহু ছাত্রছাত্রীকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষায় বসার জন্য নির্দিষ্ট উপস্থিতির হার থাকা প্রয়োজন। কিন্তু উপস্থিতি কম থাকায় বহু পড়ুয়াকে পরের বছর পরীক্ষায় বসার কথা জানানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বুধবার কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পড়ুয়ারা। তার পর তাঁরা কলেজের গেটের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। এক পড়ুয়ার দাবি, কলেজের পরিকাঠামো যথাযথ নয়, শিক্ষকেরা নিয়মিত ক্লাস করান না। এ বিষয়টি তাঁরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছেও জানিয়েছিলেন বলে দাবি।
পড়ুয়াদের অভিযোগ, কলেজের বিরুদ্ধে উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানানোর পরই কর্তৃপক্ষ সকাল সাড়ে ৮টার পরিবর্তে সকাল ৬টা থেকে ক্লাস শুরু করার কথা ঘোষণা করেন। তার ফলেই বহু পড়ুয়া ক্লাসে যোগ দিতে পারেননি। পড়ুয়াদের দাবি, অত সকালে কলকাতায় মেট্রো পরিষেবা চালু না-থাকায় অনেকের পক্ষেই সময়মতো কলেজে পৌঁছোনো সম্ভব হয়নি। এর ফলেই তাঁদের উপস্থিতির হার ৪০ শতাংশের নীচে নেমে গিয়েছে।
তবে পড়ুয়াদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, ক্লাসের সময় পরিবর্তনের বিজ্ঞপ্তি গত জুলাই মাস থেকেই কলেজের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল এবং পড়ুয়াদের সেই বিষয়ে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বহু পড়ুয়ার উপস্থিতির হার সন্তোষজনক নয়।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার নির্ধারিত পরীক্ষার ফর্ম পূরণ প্রক্রিয়া স্থগিত করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তার পরেই শুরু হয় বিক্ষোভ। সারারাত ঘেরাও করে রাখা হয় উপাধ্যক্ষ-সহ অন্য কর্মী-আধিকারিকদের। পড়ুয়াদের দাবি ছিল, পদত্যাগ করতে হবে উপাধ্যক্ষকে। সকলকে বসতে দিতে হবে পরীক্ষায়। শুক্রবার দুপুরে সাড়ে ১২টা নাগাদ লিখিত পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন উপাধ্যক্ষ। তার পর এক ছাত্রী বলেন, “আগে তিনি পদত্যাগপত্র ই-মেল করুন। তার পর আমরা বিক্ষোভ তুলব।”

