অভিযুক্তদের কেন অর্ধনগ্ন করে হাঁটিয়েছে পুলিশ জানতে চাইলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সিপির কাছে রিপোর্ট তলব!
বাংলার জনরব ডেস্ক : বেহালার সরশুনার ঘটনায় প্রেমিক তার বন্ধু এবং বাবাকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগে কলকাতা পুলিশ পদক্ষেপ করেছিল। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ বা সরশুনার পুলিশ। কিন্তু তাঁদেরও অর্ধনগ্ন করে কোমরে দড়ি পরিয়ে খালি গায়ে তিন অভিযুক্তকে পুলিশ কেন হাঁটিছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নোটিশ পাঠালো। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে তারা কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। দু’সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে সিপি-কে।
বৃহস্পতিবার সিপি-কে নোটিসে এনএইচআরসি জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে সরশুনার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যগুলি সঠিক কি না, যদি সঠিক হয়, তবে কোন আইনে অভিযুক্তদের সঙ্গে এই আচরণ করা হল, জানতে চেয়েছে কমিশন। তাদের বক্তব্য, পুলিশ যদি সত্যিই এই কাজ করে থাকে, তবে তা মানবাধিকারের ঘোরতর বিরোধী। তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার সন্ধ্যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ১৮ বছরের এক তরুণ তাঁর ১৯ বছরের বন্ধুকে নিয়ে সরশুনায় নাবালিকা প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কথা বলার সময় কিশোরীকে তিনি চুম্বন করেন। তা দেখতে পান ওই কিশোরীর মামার এক বন্ধু। তিনি বাড়িতে খবর দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিশোরীর বাড়ির লোকজন এসে দুই তরুণকে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে তাঁদের হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। কিশোরীর বাবা এর পর ফোন করে ডেকে নেন প্রেমিক তরুণের বাবাকেও। অভিযোগ, তিন জনকে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে জামাকাপড় খুলতে বাধ্য করা হয়। তার পর বাড়ির সামনের রাস্তায় ওই অবস্থায় প্রায় ৫০ মিটার হাঁটানো হয়।
সরশুনা থানার পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছিল। কিশোরীর বাবা, মামা এবং তাঁদের এক বন্ধুকে পরের দিন ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য পাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের পরনে ছিল কেবল হাফ প্যান্ট। কোমরে দড়ি পরিয়ে পুলিশ তাঁদের প্রায় ১০০ মিটার হাঁটিয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশি হেফাজতে অভিযুক্তদের সঙ্গে এই আচরণে অসন্তুষ্ট মানবাধিকার কমিশন। সিপি-র কাছে সেই কারণেই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে তারা।

