দেশ 

দলমত নির্বিশেষে দেশের সব ছাত্র সংগঠনকে রামলীলা ময়দানের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান রাহুলের! “লাঠির ভয় পাবেন না, বিজেপির আর ওইসব করার সাহস নেই”বললেন বিরোধী দলনেতা

শেয়ার করুন

দলমত নির্বিশেষে সব ছাত্র সংগঠনকে রবিবারের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ডাক দিলেন রাহুল গাঁধী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আগামী রবিবার ‘দিল্লি চলো’ অভিযান রয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র। রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করবে তারা। রাহুলদের ওই কর্মসূচিকে ইতিমধ্যে সমর্থন জানিয়েছে ককরোচেরা। এ বার দেশের সব ছাত্র সংগঠনে ‘দিল্লি চলো’ অভিযানে ডাক দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। পুলিশের বা লাঠিচার্জের ভয় না পেয়ে সকলকে এগিয়ে আসার বার্তা দিলেন তিনি। বললেন, “বিজেপির আর ও সব করার সাহসও হবে না।”

জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে ধারাবাহিক বিক্ষোভ, প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে ‘ইন্ডিয়া’। একই দাবিতে সমান্তরাল কর্মসূচি চলেছে ককরোচ জনতা পার্টিরও। এ বার রবিবার বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে ককরোচদের প্রতিনিধিত্ব থাকারও প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় দেশের ছাত্র-যুবদের উদ্দেশে রাহুলের বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এক ভিডিয়োবার্তায় রাহুল বলেন, “এটা গণতন্ত্র বাঁচানোর, ‘ভোট চুরি’ আটকানোর এবং সংবিধান বাঁচানোর মিছিল। এটা কোনও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মিছিল নয়।” যাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশের ‘কাজকর্মে ক্ষুব্ধ’, যাঁরা দেশের ‘গণতন্ত্র বাঁচাতে চান’— তাঁরা সকলকে ‘দিল্লি চলো’ অভিযানে যোগ দেওয়ার জন্য বলেছেন রাহুল।

সাম্প্রতিক অতীতে জ্ঞানেশ-বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। পুলিশ যে ভাবে আন্দোলনকারীদের আটক করেছে, তা নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। এ বার পুলিশের সেই ভূমিকাকে ফের এক বার বিঁধলেন রাহুল। ছাত্রযুবদের উদ্দেশে বললেন, “পুলিশ বা লাঠিচার্জ নিয়ে ভয় পাবেন না। বিজেপির আর ও সব করার সাহস হবে না। মিছিলে যোগ দিন। আমরা সকলে সংবিধান এবং দেশকে রক্ষা করতে একসঙ্গে হাঁটব। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।” এ অবস্থায় রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে প্রতিটি ছাত্র সংগঠনকে দিল্লির ওই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।

সিজেপি এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’— উভয়েই মোটের উপর একই দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে। তবে শুরুতে ককরোচদের থেকে কিছুটা দূরত্বই রাখছিল কংগ্রেস। সিজেপির ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আটকও হয়েছেন বিরোধী শিবিরের অনেক নেতানেত্রীই। সেই তালিকায় ছিলেন চার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন, মানিক সরকার এবং অরবিন্দ কেজরীবাল। তবে সে দিনের কর্মসূচিতে রাহুল গাঁধী বা কংগ্রেস নেতৃত্বকে দেখা যায়নি।

সম্প্রতি সেই দূরত্ব কিছুটা কেটেছে বলেই মত অনেকের। দুই ককরোচ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারির পর প্রকাশ্যে সিজেপির পাশে দাঁড়ান রাহুল। সিজেপি-কে সমর্থনের বার্তা দিয়ে লেখেন, “যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনও অপরাধ নয়।” বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কেও মঙ্গলবার প্রকাশ্যে সমর্থনের বার্তা দিয়েছে ককরোচেরাও। তবে রবিবার রামলীলা ময়দানের সমাবেশে বিরোধী জোটের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে ককরোচ নেতৃত্বও থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ককরোচ নেতা অভিজিৎ দিপকেও এ বিষয়ে কিছু খোলসা করেননি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ