জামিনের জন্য দশ হাজার টাকার বন্ড জমা দেওয়ার ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ বেআইনি অসংবিধানিক দিল্লি হাইকোর্টে মামলা নেহার,শুনানি শেষ, আজ রায় ঘোষণা!
দিল্লির স্পেশ্যাল এগজ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছিল জামিনের জন্য ১০ হাজার টাকা বন্ড জমা দিতে হবে,একই সঙ্গে দিল্লি পুলিশের অনুরোধ মেনে শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেখা দিতে হবে এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি সুব্রহ্ম্যণম প্রসাদের বেঞ্চ আড়াই ঘণ্টারও বেশি শুনানির পরে নেহা বোরার সেই আবেদনের রায় ঘোষণা স্থগিত রাখল। সূত্রের খবর, ছাত্র সংগঠন আইসার সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহার মামলায় রায় শুক্রবার ঘোষণা করা হতে পারে।
গত ১৬ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকে কনট প্লেসে জাতীয় পতাকা নিয়ে ‘তেরঙা ওড়াও’ (লেহেরা দো তিরঙ্গা) কর্মসূচি শুরুর আগে আটক করা হয়েছিল নেহাকে। পরে তাঁকে ছেড়েও দেওয়া হয়। ককচোর নেতা অভিজীত দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, বা সৌরভ দাসদের মতো তাঁকে ‘সতর্কতামূলক গ্রেফতার’ (প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট) করা হয়নি। কিন্তু ছাড়া পাওয়ার পর তাঁকে দিল্লির স্পেশ্যাল এগজ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের তরফে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে পাঠানো সেই নোটিসে বলা হয়, নেহাকে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দিতে হবে এবং আগামী দিনে শান্তিরক্ষার অঙ্গীকার করে মুচলেকা দিতে হবে।
নেহার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল, শান্তিভঙ্গ ও আইন ভেঙে জমায়েতের ডাক। পাশাপাশি, ‘ভোটচুরি’ এবং এসআইআর-অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনপর্বে ক্ষমতার পরিবর্তনের ডাককেও ‘বেআইনি’ বলে দাবি করেছিল দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার শুনানিপর্বে সরাসরি এগজ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশকে ‘অসাংবিধানিক’ বলেন নেহার আইনজীবীরা। তাঁদের যুক্তি, নেহা সিজেপির সদস্য নন। তাই ১৬ অক্টোবরের কনট প্লেস অভিযানের আহ্বানকারীদের তালিকায় সরাসরি তিনি থাকতে পারেন না। জাতীয় পতাকা নিয়ে ভারতের যে কোনও স্থানে যাওয়া যায় বলেও দাবি নেহার। হাই কোর্টে কেন্দ্রের তরফে অভিযোগ করা হয়, নেহা বারবার প্রকাশ্যে সরকার বদলের হুমকি দিয়েছেন। জবাবে নেহার আইনজীবী জানান, গণতান্ত্রিক দেশে সরকার বদলের আহ্বান কখনওই বেআইনি হতে পারে না।

