কলকাতা 

আত্মহত্যা না খুন খতিয়ে দেখা উচিত দাবি অগ্নিমিত্রার, থ্রেট কালচারের শিকার আশিসদা, বললেন কুনাল ঘোষ

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : রামপুরহাট এর প্রাক্তন তৃণমূলের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এর আত্মহত্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেছেন প্রাক্তন মন্ত্রীর সুইসাইড মূর্তি খতিয়ে দেখতে হবে। তাকে খুন করাও হতে পারে। অন্যদিকে এই ঘটনাকে বা প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকারের মর্মান্তিক মৃত্যুকে বা ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার কে থ্রেট কালচারের পরিণতি বলে অভিযোগ করেছেন কুনাল ঘোষ। তিনি বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন পুলিশের উপর আমাদের আস্থা নেই বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে পুরো বিষয়টিকে নিষ্পত্তি করতে হবে। সম্প্রতি তিনি মমতার সঙ্গ ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিলেন।

এদিকে, তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে রবিবার সকালেই রামপুরহাটের উদ্দেশে রওনা হয় ঋতব্রত শিবিরের একটি প্রতিনিধিদল। ঋতব্রত ছাড়াও তাতে রয়েছেন আখরুজ্জামান, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, ঋজু দত্ত। এ ছাড়া, জেলার নেতারা আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন।

আশিস আদৌ আত্মঘাতী হয়েছেন কি না, প্রশ্ন তুলে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘‘এটা দেখা দরকার। তিনি যে আত্মহত্যাই করেছেন, খুন হননি, দেখতে হবে। লিখে গিয়েছেন মানেই আত্মহত্যা, প্রথমেই সেটা আমি বলতে চাই না। এটা তো ঠিক, তৃণমূলের সবাই যে চোর, তা তো নয়। তাঁদের মধ্যেও কেউ কেউ আছেন, যাঁরা শিরদাঁড়া সোজা করে রাজনীতি করেছেন।’’ চিঠিতে আশিস দাবি করেছেন, তিনি কোনও দিন কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছিল। তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীরাও সে কথা মেনে নিচ্ছেন। সে প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা জানান, তৃণমূলের কেউ কেউ সোজা পথেও রাজনীতি করেছেন, তা অস্বীকার করা যায় না।

আশিসের মৃত্যুতে প্ররোচনাকারীকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন কুণাল। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন তিনি। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গাড়ির ভিতরে আশিসকে লক্ষ্য করে কড়া ভাষায় কথা বলছেন এক যুবক। বলছেন, ‘‘বয়স কম হলে না চাবকে ছাল তুলে দিতাম।’’ কুণালের দাবি, ভিডিয়োতে যে যুবককে দেখা যাচ্ছে, তিনি বিজেপি কর্মী। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা উচিত। এই অপমানের পর আশিসের পাশে ঋতব্রত শিবিরের কেউ দাঁড়াননি বলেও দাবি করেছেন কুণাল।

বীরভূমের নেতা অনুব্রত মণ্ডল জানিয়েছেন, শক্তিগড়ে আশিসের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অন্যায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও এ বিষয়ে তাঁর কথা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আশিসকে এ নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বলেছিলেন। অনুব্রতের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি আশিসের পরিবারের পাশে আছেন। শক্তিগড়ের ঘটনা ১০০ বার অন্যায়। মুখ্যমন্ত্রী এফআইআর করতে বলেছিলেন। উনি কেন করলেন না, জানি না।’’

ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য আশিসকে চাপ দেওয়া হয়েছিল, দাবি কুণালের। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘আশিসদাকে চাপ দিয়েই ওই শিবিরে নেওয়া হয়েছিল। তিনি দলীয় নেতাদের বলার চেষ্টা করছিলেন, মমতাদির নেতৃত্বে থাকা ভাল। কিন্তু দুর্নীতির তদন্ত থেকে বাঁচতে ওদিকে যাওয়া কয়েক জন আশিসদাকে চাপ দিয়ে সঙ্গে থাকতে বাধ্য করেছিলেন। ‘ভাল তৃণমূল’ হয়েও বাঁচা যায় না। কারণ, ওখানকার পাঁচ-ছ’জন নিজের পাপ ঢাকার জন্য বিজেপির পা চাটতে গিয়েছে। সসম্মানে ওই রাজনীতি করা যায় না।’’ আশিসের সমাজমাধ্যমের পাতায় এখনও মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রয়েছে। তা-ও তুলে ধরেছেন কুণাল।

আশিসের মৃত্যু নিয়ে বিজেপিকেও নিশানা করেছেন কুণাল। অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারা তৃণমূল নেতাদের নানা ভাবে সামাজিক দিক থেকে অপদস্থ করছে। কুণালের কথায়, ‘‘কোনও দোষ প্রমাণের আগেই কারও বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া, কাউকে কলঙ্কিত করা, সামাজিক ভাবে অপদস্থ করার যে প্রবণতা বিজেপি শুরু করেছে, এই ঘটনা তার পরিণাম।’’ উপযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে আশিসের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনের ডাক দিয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। বলেছেন, ‘‘আত্মহত্যাই, না কি অন্য রহস্য আছে, তদন্তকারীরা দেখুন। পুলিশ-প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। প্রকৃত সত্য সামনে আসুক।’’

ঋতব্রত বলেন, ‘‘আশিসদার চলে যাওয়া নিয়ে কিছু বলার ভাষা আমাদের নেই। তিনি সর্বজনশ্রদ্ধেয়। ওঁর সুইসাইড নোট হৃদয়বিদারক। নানা বিষয়ে ওঁর আক্ষেপ আমরা শুনেছি। সরকার বদলের পর যা কিছু সামনে আসছিল, আমাদের মতো আশিসদাও তা নিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন। গত ১৫ বছরে রাজ্য জুড়ে যে সংগঠিত লুট এবং অপরাধ চলেছে, তার কুশীলব হাতে গোনা কয়েক জন হলেও খেসারত আমাদের সকলকে দিতে হচ্ছে।’’

আশিসের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পাশাপাশি বিজেপির অপপ্রচারকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। লিখেছেন, ‘‘আজীবন শিক্ষক ও জনসেবক আশিসদা সততা, মর্যাদা ও সরলতার সঙ্গে জীবনের কয়েক দশক মানুষের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। রামপুরহাটের মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়, সমগ্র বীরভূম জেলার গর্ব। আত্মহত্যা করার আগে সুইসাইড নোটে তিনি যে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও তাঁকে কালিমালিপ্ত করার যন্ত্রণার কথা লিখে গিয়েছেন, তা উপেক্ষা করা যায় না। যাঁরা এই অপপ্রচারের অংশ হয়েছিলেন, তাঁদের নিজেদের কথা ও কাজের মানবিক পরিণতি নিয়ে ভাবা উচিত। রাজনৈতিক লড়াই আসবে, যাবে। কিন্তু একটা জীবন চলে গেলে তা আর কখনও ফিরিয়ে আনা যায় না।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ