আব্দুল হাফিজের উপর হামলা বাঁকুড়ায় আসছে কোকরোচের দল, চাপের মুখে শুভেন্দু সরকার
বাংলার জনরব ডেস্ক : ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলনের অন্যতম মুখ বাঁকুড়ার ভূমিপুত্র আবদুল হাফিজ। দিল্লিতেও আন্দোলনের ছিলেন। এবার তিনি গ্রামে ফিরে সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ (School Thik Karo) অভিযানের সমর্থনে নিজের এলাকার একটি বেহাল সরকারি স্কুলের ভিডিও তুলেছিলেন। আর সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরই নেমে এল চরম মর্মান্তিক পরিণতি। অভিযোগ, ভিডিও করার জেরে হামলার শিকার হন ওই যুবক ও তাঁর পরিবার। নৃশংস এই হামলায় শেষপর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে আবদুল হাফিজের বয়স্ক বাবার।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে হামলার নির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছে সিজেপি নেতৃত্ব। যদিও এই ঘটনায় গেরুয়া শিবিরের দিকে ওঠা সমস্ত অভিযোগ এককথায় খারিজ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘যে ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে, তাদের ৩ জন ইতিমধ্যেই গ্রেফতার। বাকিদেরও করা হবে। এখানে বিজেপির কোনও ব্যাপার নেই। এরা সবাই দুষ্কৃতী। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।’’
সিজেপি সূত্রে জানা গেছে, বাঁকুড়ার ইন্দাস থানা এলাকার বাসিন্দা আবদুল হাফিজ নিজের এলাকার সরকারি প্রাথমিক স্কুলের পরিকাঠামো ও বেহাল দশা ছবি তুলেছিলেন এবং ভিডিও তৈরি করেছিলেন। আর এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি দিয়েছিলেন। এরপরেই তারপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজেপির প্রভাবিত কিছু দুষ্কৃতী। তাঁর তার বাড়িতে চড়াও হয় হাফিজ এবং হাফিজের বাবাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সেখানে তার বাবার মৃত্যু হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি লিখেছেন, ভাল স্কুল গড়ার দাবি তোলার কারণে আজ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, যা রক্ত গরম করার মত ঘটনা। সিজেপি মৃত যুবকের পরিবারের পাশে রয়েছে এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছে। খুব শীঘ্রই সিজেপির একটি প্রতিনিধি দল পশ্চিমবঙ্গ সফর করবে এবং এই ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সবরকম লড়াই চালাবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, এই ধরনের হিংসা ও হুমকি দিয়ে তাদের আন্দোলন থামানো যাবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে সিজেপি। সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আগামীকাল, আমি, বিজয় মাল্লাঙ্গি, অঙ্কিত ভরদ্বাজ, সুধীর সাঙ্গোয়ান-সহ সিজেপি সদস্যরা বাঁকুড়ার করিসুন্দা গ্রামে যাব।

