জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবার সক্রিয় ইন্ডিয়া জোট, ৩০ শে সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বৈঠক যাচ্ছেন মমতা অভিষেক
বাংলার জনরব ডেস্ক : আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার দিল্লিতে বৈঠকে বসতে ইন্ডিয়া জোট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। তা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে আলোচনার জন্যই ইন্ডিয়া জোটের দ্রুত বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকেই যোগ দিতে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কল্যাণ ব্যানার্জির মত তৃণমূল নেতারা। মনে করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এবার দেশের সমস্ত বিরোধী দলগুলো একসঙ্গে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে।
জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন যে থামবে না তাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে সমগ্র দেশ জুড়ে আন্দোলন তুঙ্গে তোলা হয়েছে। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম জেলা সফরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রীরামপুরে তিনি বলেছেন জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ করে দেওয়ার পর ইন্ডিয়া জোট দিল্লিতে সরকার করবে। বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের এখন একটি মাত্রই এজেন্ট হচ্ছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ। এদিকে আজ শ্রীরামপুরে সভা করতে যাওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। একইসঙ্গে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি কথা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাহুলকে পরামর্শ দিয়েছেন দ্রুত বিরোধী জোটের বৈঠক ডাকার জন্য। সেই মোতাবেক আগামী ৩০ শে সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বৈঠক ডেকেছে ইন্ডিয়া জোট।
সূত্রের খবর, জ্ঞানেশ প্রসঙ্গে বিরোধী দলগুলির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে আগামী বুধবারের বৈঠকে। নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রসঙ্গেও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এই বৈঠকের বিষয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুলের সঙ্গে ফোনে কথাও হয়েছে মমতার। সূত্রের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাহুলকে দ্রুত বিরোধী জোটের বৈঠক ডাকার জন্য বলেন মমতা। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
নির্বাচন কমিশন এবং জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কে ফের এক বার এককাট্টা হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী দলগুলি। সর্বভারতীয় স্তরে একসঙ্গে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে সিপিএম এবং মমতাপন্থী তৃণমূলও।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এটিকে ‘বৃহত্তর’ চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে লড়াই বলে ব্যাখ্যা করছেন। এর সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়ার কোনও যোগ নেই বলেই দাবি সেলিমের। মমতাকে বেবির চিঠি প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি একটি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। তৃণমূল-সহ বিভিন্ন দলের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনেকেই এতে শামিল হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে মমতাকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।”
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদন ঘিরে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে নাগাড়ে সুর চড়িয়ে যাচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুলছে কংগ্রেস, মমতাপন্থী তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলি।
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আগেও সরব হয়েছে। গত বছরে ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজে ‘ভোটচুরির’ অভিযোগ তুলে বিজেপি এবং কমিশনকে বিঁধেছিলেন রাহুল। এ বার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফের এ বার নিজেদের রণকৌশল স্থির করতে মুখোমুখি বসছেন বিরোধী জোটের নেতারা।
এর আগে গত জুনে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসেছিল বিরোধী দলগুলি। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী ওই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী সপ্তাহের দিল্লির বৈঠকেও থাকতে পারেন উভয়েই।
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেন, “৩০ তারিখের বৈঠকে আমাদের সর্বভারতীয় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, উভয়েই যোগ দিতে আসবেন।” তিনি জানান, বৈঠকে শুধু জ্ঞানেশ বা কমিশনের প্রসঙ্গে নয়, কেন্দ্রের যে নীতিগুলি ‘দেশের পক্ষে পরিপন্থী’ তা নিয়েও আলোচনা হবে।

