আমাকে আটক নয় অপহরণ করা হয়েছিল : ধ্রুব রাঠী
বাংলার জনরব ডেস্ক : পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত মন্তব্যটি করেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। শনিবার সকালেই তাকে আটক করা হয়েছিল রবিবার সকালে নিজের বাড়িতে গুরুগ্রামে বসে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। দিনভর কী কী ঘটেছে, কী ভাবে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, বর্ণনা করেছেন তিনি। অভিযোগ, আটক বা গ্রেফতার নয়, তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল।
ধ্রুবের অভিযোগ, সকালে তাঁর বাড়িতে ঢুকে শোয়ার ঘর থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জুতো পরার সময়টুকুও দেওয়া হয়নি। ঘটনাবলি বর্ণনা করতে করতে তিনি বলেন, ‘‘আমি ঘুমোচ্ছিলাম। সকাল ৭টা নাগাদ বাড়ির বাইরে লোকজন ঘোরাফেরা করছে দেখে আমার মা দরজা খোলেন। কোনও পুলিশ ছিল না। সাধারণ পোশাক পরা লোকজন আমার মাকে ধাক্কা মেরে ভিতরে ঢোকেন এবং সোজা চলে আসেন আমার শোয়ার ঘরে। মা চিৎকার করছিলেন। আমি ঘুম ভেঙে উঠে কিছু বলা বা করার সুযোগ পাইনি। জুতো পরার সময়টুকুও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাড়ি থেকে। অপহরণ শব্দটাই আমি ব্যবহার করতে চাই। কারণ, এটা কোনও গ্রেফতারি বা আটক নয়। যদি কোথাও প্রতিবাদ আন্দোলন করতে যেতাম, সেখান থেকে ধরলে তাকে আটক বলা যেত। গুন্ডা পাঠিয়ে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে। বাড়িতে তখন আমি, বাবা, মা ছাড়া আর কেউ ছিল না।’’
ধ্রুবের অভিযোগ, ৫০ জনেরও বেশি ‘গুন্ডা’ তাঁর বাড়ির বাইরে ঘোরাফেরা করছিল সকালে। তাঁর দাবি, শোয়ার ঘর থেকে অপরাধীর মতো টানতে টানতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়, গাড়িতে তোলা হয়। অভিযোগ, এই থানা থেকে ওই থানা ঘোরানো হয়। তাঁর কথায়, ‘‘আমার ফোন, আমার বাবা-মায়ের ফোন শুরুতেই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। থানায় গিয়ে আমি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাই। সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফোনও ব্যবহার করতে দেয়নি। শুধু বলা হচ্ছিল, ‘এটা গ্রেফতারি নয়, আটক নয়। আপনাকে ছেড়ে দেওয়া হবে’। টানা ২২-২৩ ঘণ্টা আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল। একে অপহরণ ছাড়া আর কী বলব?’’
নরেন্দ্র মোদী সরকারকে কটাক্ষ করে ধ্রুবের বার্তা, ‘‘কোনও গণতান্ত্রিক দেশে কি কখনও এটা দেখা যায়? একজন সাধারণ নাগরিক, যিনি কোনও আইন ভাঙেননি, কেবল সত্যের পক্ষে সরব হয়েছেন, তাঁর বাড়িতে ঢুকে শোয়ার ঘর থেকে তাঁকে অপহরণ করা হচ্ছে, তাঁর বাবা-মার সঙ্গে মারপিট, হাতাহাতি করা হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রে হতে পারে না। মোদী এই দেশে স্বৈরতন্ত্র চালু করে দিয়েছেন। সোজা কথায়, অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে। এ সব জরুরি অবস্থার সময় হত। উত্তর কোরিয়ায় হয়।’’
সমালোচকদেরও এক হাত নিয়ে ধ্রুব বলেছেন, ‘‘যাঁরা আমাকে পছন্দ করেন না, তাঁরা এতে খুব খুশি হচ্ছেন। কিন্তু স্বৈরতন্ত্র যখন এক বার চলে আসে, নিজের কথাও ভাবা উচিত। আজ আমার সঙ্গে যা হচ্ছে, আপনার সঙ্গেও কাল তা হতে পারে।’’ ছাড়া পেলেও তাঁকে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ধ্রুবের। তিনি বলেন, ‘‘অন্তত ১৫ জন আমার উপর নজর রাখছেন, যাতে আমি বাড়ি থেকে বেরোতে না পারি। অঘোষিত ভাবে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে আমাকে।’’ মোদীকে হিটলার এবং মুসোলিনির অন্তিম পরিণতি মনে করিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জনপ্রিয় এই ইউটিউবার। এক দিনের মধ্যে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া না-হলে অনশনে বসবেন, হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ধ্রুব।
ককরোচদের আন্দোলনকে সমর্থন জানানোর পর থেকেই অনেকে ধ্রুবের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট হাতে নিয়ে ভিডিয়ো রেকর্ড করেন তিনি এবং জানান, তিনি ভারতীয় নাগরিক। যে কোনও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অধিকার তাঁর আছে।

