দেশ 

এবার শুধু জ্ঞানেশ কুমার নন-সিজেপির নিশানায় নরেন্দ্র মোদীও দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ আশুতোষ সৌরভের

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : এবার শুধু জ্ঞানেশ কুমার নন এবার কোকরচ জনতা পার্টির নিশানায় নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীকে স্বৈরাচারী শাসক বলে আক্রমণ করলেন সিজেপির নেতারা। গতকাল শনিবার সিজেপির তিন প্রধান নেতা অভিজিৎ দীপকে সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রবিবার সকাল ১০ টা নাগাদ তাদেরকে নির্দিষ্ট শর্তে জামিন দেয় আদালত। এই জামিন পাওয়ার পর অভিজিৎ দীপকে জানিয়ে দেন বেলা দুটো নাগাদ সৌরভ দাস ও আশুতোষ দুজনে সাংবাদিক বৈঠক করবেন। যেহেতু অভিজিৎ দীপকের ঠাকুমা মারা গেছেন তাই তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে গেছেন।

কিন্তু বেলা দুটো নাগাদ দেখা গেল দিল্লিতে যতগুলো ছাত্র সংগঠন রয়েছে তাদের প্রায় সকলেই এই সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হন। প্রথমে আশুতোষ রাঙ্ক সাংবাদিক বৈঠকের সূচনা করে সরাসরি নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন একটিমাত্র ব্যক্তিকে বাঁচানোর জন্য সরকারের এত আগ্রহ কেন? এর পেছনে কি অন্য কোন কারণ রয়েছে, সেটা আমাদেরকে খুঁজে দেখতে হবে।! তিনি বলেন মনে রাখতে হবে বারাণসী লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে প্রথম থেকেই পিছিয়ে ছিলেন নরেন্দ্র মোদি সেখানে কি অন্য কোন খেলা হয়েছিল! এ কথা বলার পর ের স্পষ্ট জানিয়ে দেন এবার সিজেপির লক্ষ্য শুধু জ্ঞানেশ কুমার নন এবার লক্ষ্য নরেন্দ্র মোদীও!

আশুতোষ অভিযোগ করেন, সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সৌরভকে আটক করার সময় অমানবিকতার পরিচয় দেয় পুলিশ। দীপকে-র ঠাকুমার মৃত্যুর খবরও অসংবেদনশীলতার সঙ্গে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সৌরভ দাবি করেন, আটক করার পর তাঁদের তিনজনকে তিনটি আলাদা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। ফোন কেড়ে নেয় পুলিশ। এমনকি আইনজীবীদের সঙ্গেও তাঁদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সৌরভ-আশুতোষদের। সৌরভের আশঙ্কা, পুলিশ তাঁদের ফোন পরীক্ষা করে দেখতে পারে এবং সেখানে এমন কিছু তথ্য ঢুকিয়ে দিতে পারে, যা পরে তাঁদের হেনস্থা করতে কাজে লাগাবে পুলিশ।

দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে সৌরভের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ধরতে জুতো পরে গুরুদ্বারে ঢুকেছিল পুলিশ। এতে শিখদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে সিজেপি।

শনিবারের ধরপাকড়কে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছে সিজেপি। আশুতোষ বলেন, “গতকাল জরুরি অবস্থার সীমাও পেরিয়ে গিয়েছে বিজেপি সরকার। স্বাধীন ভারতে কখনও এইরকম পরিস্থিতি হয়নি।” দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে বিজেপি এত তৎপর কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। দিল্লি পুলিশকে এবং কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আশুতোষ বলেন, “আমাদের লড়াই সবে শুরু হল।” শনিবারের পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লজ্জিত হওয়া উচিত বলেও জানান তিনি।

তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা দেশদ্রোহিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিজেপি নেতা সৌরভ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘আসল দেশদ্রোহী’ বলে কটাক্ষ করেন। উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য গোটা দেশে সাড়ে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। একই সঙ্গে সৌরভের দাবি, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের পতন আসন্ন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ