সৌজন্যের নজীর বাম কংগ্রেসের প্রার্থী বাইরণ বিশ্বাসের, বুথ পরিদর্শনে গিয়ে বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে করমর্দন করলেন! শাসক দলের কটাক্ষ
বিশেষ প্রতিনিধি: বুথ পরিদর্শনে গিয়ে দুই দলের প্রার্থীর দেখা। একজন বাম কংগ্রেস মনোনীত আর একজন বিজেপির প্রার্থী। স্বাভাবিক ভাবেই দুজনের মধ্যে সৌজন্য বিনিময় হয়। আর তা নিয়ে হই হই করে প্রচারে নেমে পড়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই দুই প্রার্থীর সৌজন্য রাজনীতি রাজ্যের মানুষের কাছে ভালো বার্তা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সোমবার সাগরদিঘিতে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সামসাবাদ বুথে কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন এবং দিলীপের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়। দু’জনেই বুথ পরিদর্শনে এসেছিলেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে দু’জনকে হাত মেলাতেও দেখা যায়। সেই ছবি দেখিয়ে আবার কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে আঁতাঁতের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল। দলের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাগরদিঘি জনসভায় বিজেপি-কংগ্রেসের গোপন আঁতাঁত প্রকাশ্যে আনার কয়েক দিন পরেই সোমবার এই দুই দল নিজেদের মধ্যে জোটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।’’ জোড়াফুল শিবিরের দাবি, ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র যোগ্য জবাব দেবেন সাগরদিঘির মানুষ।
কংগ্রেস এবং বিজেপি দু’দলই সমঝোতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উল্টে বাইরনের দাবি, ‘‘যদি আঁতাঁত হয়ে থাকে, তবে সেটা বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে হয়েছে। কংগ্রেস একাই লড়ছে এই নির্বাচনে।’’ বিজেপির আবার দাবি, বাইরন জিতলে তৃণমূলের যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন! দিলীপ বলেন, ‘‘বাইরন জিতলে তো তৃণমূলে যাবেন বলে ঠিক করেছেন। তাঁর সঙ্গে আঁতাঁতের প্রশ্নও ওঠে না।’’
সাগরদিঘিতে ভোটপ্রচারে গিয়ে অভিষেক দাবি করেছিলেন, বাইরন আদতে ‘পদ্মফুল মনোনীত’ হাত চিহ্নের প্রার্থী। ভোটে জিতলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি বিজেপিতে চলে যাবেন। বাইরনের সঙ্গে শুভেন্দুর ছবি দেখিয়ে বিরোধী দলনেতার বক্তৃতার রেকর্ড (সেটির সত্যতা আনন্দবাজার অনলাইন যাচাই করেনি) করা অংশও অভিষেক নিজের মোবাইল থেকে মাইকের সামনে ধরে শোনান। সেখানে শুভেন্দুকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘সংখ্যালঘু ভোট যাতে জোড়াফুলে না পড়ে, তার ব্যবস্থা আমি করে এসেছি।’’ সেই সূত্রেই অভিষেকের দাবি, বাম-কংগ্রেস এবং বিজেপির ‘অশুভ আঁতাঁত’ তৈরি হয়েছে রাজ্যে। প্রসঙ্গত, সাগরদিঘিতে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করেছে বামেরা।
অভিষেকের দেখানো ছবি নিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন শুভেন্দুও। বলেছিলেন, ‘‘ভাইপোকে বলব, দম থাকলে ছবির সাল-তারিখ বলুক। ও যদি সময়-তারিখ জানাতে পারে, তা হলে জানিয়ে দেব, কংগ্রেসের যিনি প্রার্থী, সেই সময়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান কী ছিল।’’
সমঝোতার তত্ত্বে অভিষেক বামেদেরও টেনে আনায় সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী সেই সময় বলেছিলেন, ‘‘অভিষেক কি বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায়ের তৃণমূলে যোগদানের কথা ভুলে গিয়েছেন? যাতায়াত তো চলছেই তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে!’’

