জমি অধিগ্রহণ মামলায় দ্রুত বিচার পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ মঙ্গলকোটের জমি মালিক
নিজস্ব প্রতিনিধি : জমি অধিগ্রহণ মামলায় দ্রুত বিচার পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হলেন মঙ্গলকোটের এক জমি মালিক। একাধারে বর্ধমান জেলা আদালতে সংশ্লিষ্ট এজলাসে দ্রুত বিচারক নিয়োগ এবং অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমান জেলা ভূমি অধিগ্রহণ দপ্তরের গাফিলতির বিচার চেয়েছেন জমি মালিক মোল্লা জসিমউদ্দিন। গত ৭ আগস্ট ইমেইল মারফত এবং ১০ আগস্ট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সচিবালয়ে কাগজপত্র জমা দিয়েছেন ওই জমি মালিক।জানা গেছে মঙ্গলকোট মৌজার ( জে.এল ৬৪, খতিয়ান ১১১৩১,দাগ নাম্বার ৩১০১) অধিগৃহীত জমির মালিক জসিম ৫/০৮/২০২৫ তারিখে ১৯৫৬ সালের জাতীয় ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী এল.এ কেস – ৪৯ (এন এইচ -১১৬ এ)২২-২৩ এর বিজ্ঞপ্তিতে নোটিশ পেয়ে থাকেন।সেখানে অধিগৃহীত পুরো জমির অর্ধেক আর্থিক ক্ষতিপূরণ উল্লেখ থাকে। অর্থাৎ ৩০ শতক জমি পড়লেও আর্থিক ক্ষতিপূরণ উল্লেখ থাকে ১৫ শতকের।গত বছর ২৫ আগস্ট মঙ্গলকোট গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ভূমি দপ্তরের শুনানি পর্বে বিষয়টি তে আপত্তি জানান তিনি।
সেইসাথে ২৬ আগস্ট (২০২৫) পূর্ব বর্ধমান জেলা ভূমি দপ্তরে বিশেষ জমি অধিগ্রহণ আধিকারিক কে স্কেচ ম্যাপ সহ লিখিত আপত্তি রিসিভ করে থকেন।এরপর চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ভূমি দপ্তর নোটিশ করে উক্ত দাগের সমস্ত মালিক কে অবগত করে ৮ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট জমি পরিদর্শনের বিষয়ে।ওইদিন অর্থাৎ ৮ জানুয়ারি ভূমি দপ্তরের তদন্তে অংশগ্রহণ করেন তিনি।আশ্বাস দেওয়া হয় যে, যেহেতু পুরো জমি পড়েছে, তাই পুরো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে । একাধারে জমি অধিগৃহীত হওয়ায় যেমন বেশ কয়েকবার ধান চাষ করা যায়নি, ঠিক তেমনি প্রায় ১ বছরের কাছাকাছি সময়কাল জমির জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ পাননি।এই দুই পরিস্থিতিতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ওই জমি মালিকের পরিবার ।
এরপর ১৮/০২/২৬ তারিখে জেলা ভূমি দপ্তর ওই দাগের সমস্ত জমি মালিকদের সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেক পূর্ব বর্ধমান জেলা ও দায়রা বিচারক অফিসে পাঠিয়ে দেয় (মেমো নাম্বার ৩৬৩)।পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (দ্বিতীয়) এজলাসে মামলা টি (এল.এ কেস – ৪/২৬) নথিভুক্ত হয়।প্রায় ৬ মাস অতিক্রান্ত হলেও মামলাটির অগ্রগতি নেই।কেননা ওই এজলাসে বিচারক পদ বর্তমানে খালি রয়েছে। এমতাবস্থায় কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির সচিবালয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মোল্লা জসিমউদ্দিন।
ওই এজলাসে দ্রুত বিচারক নিয়োগ করলে অধিগৃহীত জমি মালিকদের সুরাহা হবে। সেইসাথে জেলা ভূমি দপ্তরে লিখিত বক্তব্য স্কেচ ম্যাপ সহ জানিয়েও যাঁরা অদ্ভুতভাবে নিস্ক্রিয়তা দেখিয়েছে।তাঁদের গাফিলতির বিচারও চেয়েছেন ।কেননা তাঁরা সরজমিনে উক্ত জমিতে আমিন দ্বারা মেপেও কোন সদর্থক ভূমিকা নেননি।যেখানে মামলার পাহাড় কমাতে আদালত বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে, সেখানে জেলা ভূমি দপ্তরের গাফলতির কারণে ‘তারিখের পর তারিখ’ পেতে আদালতের চক্কর দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের কে।

