দেশ 

বিহার-অসমে মামলা প্রত্যাহার! রাজ্যে ধৃত নিট বিক্ষোভকারীরা দু’দিনের জন্য জেল হেফাজতে

শেয়ার করুন

কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির সমঝোতার অঙ্গ হিসেবে নিট আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি-শাসিত দুই রাজ্য বিহার এবং অসম। কিন্তু এ রাজ্যে কী হবে? নবান্নের তরফে এ ব্যাপারে এখনও কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। তবে পশ্চিমবঙ্গও পড়শি দুই রাজ্যের পথে হাঁটবে বলেই খবর।

নিট প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে মূল আন্দোলন হয়েছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে। তার সমর্থনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের অন্যত্রও। বড় মাপের বিক্ষোভ হয় বিহার, অসম এবং মহারাষ্ট্রে। গত শুক্রবার কলকাতার মিছিলে গোলমালের জেরে উত্তাল হয়ে ওঠে ধর্মতলা চত্বর। বিক্ষোভকারীরা সাংবাদিকদের উপরে চড়াও হন বলে অভিযোগ। বেশ কয়েক জন সাংবাদিককে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কিন্তু গত শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পরে যে সব শর্তে ককরোচদের আন্দোলনে ইতি পড়েছে, তাদের অন্যতম হল, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। কেন্দ্র সেই শর্ত মানছে না বলে সোমবার অভিযোগ করেন ককরোচদের নেতা সৌরভ দাস। নতুন করে আন্দোলেনে নামার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তার পরেই রাতে ফের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা হয় কেন্দ্রের। জানিয়ে দেওয়া হয় বিজেপি-শাসিত সব রাজ্যকে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বলা হবে।

এর কয়েক ঘণ্টা পরেই বিহার এবং অসম সরকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছেন, ধর্মতলার মিছিলে ইচ্ছাকৃত ভাবে অশান্তি পাকানো হয়েছে। পুলিশ অন্তত ৭০ জনকে চিহ্নিত করেছে, যাঁরা ছাত্র বা সিজেপি-র সদস্য নন। নিট-আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। সরাসরি ধর্মতলার প্রসঙ্গ উল্লেখ না-করলেও সোমবার জলপাইগুড়ি থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন,“দেশবিরোধী টুকরে টুকরে গ্যাং, সেকু আর মাকুরা জেগে উঠেছে।”

কলকাতার মিছিলে অশান্তির ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানা এবং এন্টালি থানা মিলিয়ে মোট আটটি এফআইআর রুজু হয়েছে। তার মধ্যে একটি পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর। বাকি সাতটি রুজু হয়েছে নিগৃহীতদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে। ফলে রাজ্য সরকার যদি পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহার করেও নেয়, তা হলেও বাকি এফআইআরগুলির ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা স্পষ্ট নয়।

দিল্লিতে ছাত্রবিক্ষোভে পুলিশি ‘বাড়াবাড়ির’ মামলার মঙ্গলবার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, যে নাবালকেরা অতীতে কোনও ফৌজদারি অপরাধ-যোগ নেই, তাঁদের মুক্তি দিতে হবে। কিন্তু কলকাতার মিছিলে অশান্তির অভিযোগে ধৃতদের কেউ নাবালক নন। ৬ জনের বিরুদ্ধে অতীতেও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া ১৬ জনকে মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে তাঁদের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে সরকার। ধৃতদের আইনজীবী অন্য রাজ্যের উদাহরণ টেনে মামলা প্রত্যাহার করার কথা বললেও সরকারের তরফে এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। শেষ পর্যন্ত সকলকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। সে দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ