এবার কী গ্রেফতার হতে চলেছেন হুমায়ুন কবীর!
অডিয়ো-বিতর্কে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে বহরমপুর থানায় হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। সেই নির্দেশ মতো সোমবার সকাল ১১টার আগেই থানায় পৌঁছে যান তিনি। পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতার কথা বলেও একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন হুমায়ুন। শুধু তা-ই নয়, গ্রেফতারির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার সকাল ১১টায় হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। নির্ধারিত সময়ের আগেই থানায় যান হুমায়ুন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের আগে নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি। টেনে আনেন পুরনো এক প্রসঙ্গও। তাঁর বেয়াইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন হুমায়ুন। সেই ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছেন তিন জন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, ‘‘আদালতে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল ওই অফিসারদের। এখন তাঁরাই আমাকে তলব করেছে।’’ শাসকদলকে ‘তুষ্ট’ করে চলার অভিযোগও ওই অফিসারদের বিরুদ্ধে তুলেছেন হুমায়ুন। একই সঙ্গে তাঁর দলের একের পর এক নেতাকর্মীর গ্রেফতারি নিয়েও ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, ‘‘প্রশাসন নির্বিচারে আমার লোকদের গ্রেফতার করছে। তারা ইচ্ছে করলে আমাকেও গ্রেফতার করতে পারে।’’
সম্প্রতি এক ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোনে হুমায়ুনের কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ওই অডিয়ো। অভিযোগ, ফোনে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেছেন হুমায়ুন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে নেমে শনিবার বিকেলে হুমায়ুনের বাড়ি যায় বহরমপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ২৯৯,১৪৮, ১৫২, ১৯২, ১৯৬ (২), ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
উপনির্বাচনের মুখে তাঁর দলের কয়েক জন নেতাকে পুলিশ ইচ্ছাকৃত ভাবে গ্রেফতার করছে বলে অভিযোগ এজেইউপি প্রতিষ্ঠাতার। শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মঞ্জুর রহমান ওরফে লেবু, হক মল্লিক এবং আব্দুল আলিম। শক্তিপুরের মিঞাগ্রাম থেকে গ্রেফতার হয়েছেন মহম্মদ নাসিম শেখ। নাসিম হুমায়ুনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বাকিরা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জড়িত। মঞ্জুর রহমানের স্ত্রী বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। হক মল্লিক আম জনতা উন্নয়ন পার্টির রেজিনগর ব্লক সহ-সভাপতি এবং ছ’টি অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন। আব্দুল দাদপুর অঞ্চলের সভাপতি। সোমবারও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সেই প্রেক্ষিতে রবিবার হুমায়ুনের ঘোষণা, আর ভোটপ্রচারে বেরোবেন না তিনি। নওদার বিধায়কের কথায়, ‘‘প্রাথমিক ভাবে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, একাই রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচার থেকে সরে আসব। পরে আমি আমার সিদ্ধান্ত বদলেছি। এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে উপনির্বাচনে আমাদের দলের প্রার্থী গোলাম নবী আজ়াদও ভোট প্রচারের ময়দানে নামবেন না। আমাদের দলের আর প্রচারের দরকার নেই।’’ হুমায়ুন অভিযোগ করেছেন, পুলিশ নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করছে না। তিনি বলেন, ‘‘এককথায় গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে আমরা আর মাঠে-ময়দানে নেমে প্রচার করব না। আমাদের সমাজমাধ্যমের পাতা থেকে আগামী কয়েক দিন দলীয় প্রচার চালানো হবে।’’ তিনি জানান, দলের কর্মীদের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

