শেষ পর্যন্ত দিল্লী পুলিশ গ্রেফতার করল অভিজিৎ দীপকেকে
শেষ পর্যন্ত গ্রেফতারই করা হল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রধান অভিজিৎ দিপকে-কে। শুক্রবার দিনভর আটকে রাখার পর শনিবার ভোরে দিল্লি পুলিশ জানাল, ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ (আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রেফতার) করা হয়েছে ককরোচদের প্রধান মুখকে। শনিবারই তাঁকে দিল্লির বিশেষ এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে হাজির করানো হবে।
সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আগেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তাঁরা রয়েছেন জেল হেফাজতে। দু’জনকে রাখা হয়েছে তিহাড় জেলে। এ বার তাঁদের সংগঠনের মাথা দিপকে-কেও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রেফতার করা হল। পুলিশের বক্তব্য, শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ এবং ১৭০ ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে দিপকে-কে। উল্লেখ্য, নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৭০ ধারায় কোনও পরোয়ানা বা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছাড়াই কোনও অপরাধ ঠেকাতে কাউকে গ্রেফতার করতে পারে পুলিশ।
শনিবার সকালে ‘ককরোচদের’ আইনি পরামর্শদাতা দলের প্রধান রত্না সিংহ দাবি করেন, দিপকে-কে পুলিশ কোথায় আটকে রেখেছে, তা সংগঠনের কেউ জানেন না। আইনজীবীদেরও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। বস্তুত, সিজেপির যন্তর মন্তর অভিযানের সময়েও সিজেপির তিন প্রধান মুখকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকেই ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ পুলিশ। পরে এক বছর ‘শান্তি বজায় রাখার’ শর্তে জামিন পেয়েছিলেন সৌরভেরা। তার দু’দিন পর আবার ‘নিষিদ্ধ’ যন্তর মন্তরে (ততক্ষণে যন্তর মন্তরকে ‘নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের’ তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয় পুলিশ) ঢুকে পড়েন সৌরভ এবং রাঙ্কা। ফের গ্রেফতার করা হয় তাঁদের। সেই বার আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরের অদূরে কনট প্লেসে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি। ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময়ে শুক্রবার বিকেলে আটক হন দিপকে। পরে তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। শুক্রবার সিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আটক হন আইসা নেত্রী নেহা বোরাও। তাঁকে অবশ্য রাতেই ছেড়ে দেয় পুলিশ। দিল্লি পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্তির পর নেহা অভিযোগ করেন, বিনা কারণে আটক করে বিক্ষোভকারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেফাজতে রাখা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের ভয় দেখানোর জন্যই এই ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে দাবি আইসা নেত্রীর।
“আমরা দেখছি বিক্ষোভকারীদের আটক বা গ্রেফতার করা হচ্ছে। পরের দিন সকালে বা সন্ধ্যায় তাঁদের আবার ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আজ আমি ব্যক্তিগত ভাবে সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হলাম। কেন এমন অবৈধ ভাবে আটক করা হচ্ছে, এর উদ্দেশ্য কী? সাধারণ নাগরিকদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্যই এ সব করা হচ্ছে,” বলেন নেহা।

