ইয়েমেনের হুতিদের আক্রমণে দিশেহারা সৌদি আরব! রাজপ্রাসাদ ছেড়ে আশ্রয় নিলো বাংকারে, পাশে নেই আমেরিকা ও ইসরাইল গভীর সংকটে সালমান!
বাংলার জনরব ডেস্ক : ইয়েমেন ের অতি সংগঠনের আক্রমণ ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছে সৌদি সরকার। সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলো আমেরিকা আর সেই সূত্রে ইসরাইল তার বন্ধু রাষ্ট্র হিসাবেই পরিচিত। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছে ইয়েমেন এবং ইরান। সম্প্রতি ইরান আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সৌদি আরবের ভূমিকায়, প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ছিল ইরান সরকার। অন্যদিকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী যেভাবে সৌদি আরবের বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তেলের শোধনাগারকে নিশানা করে আক্রমণ করছে তাতে প্রচন্ড পরিমাণে ভয় পেয়েছে সৌদি সরকার।
সৌদির যুবরাজ সালমান ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আবেদন করেছেন তাদেরকে সাহায্য করার জন্য। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো পর্যন্ত কোনো সাহায্যের আশ্বাস দেয়নি কোনো সাহায্য পাঠাইনি। ফলে কার্যত মধ্যপ্রাচ্যে এক ঘরে হয়ে গেছে সৌদি আরব। ইরান মদদপুষ্ঠ ইয়েমেনের শিয়া সংগঠন হুতি যেভাবে সৌদি আরবের ওপর আক্রমণ করে চলেছে তাতে সৌদীর রাজ পরিবার ভয় পেয়ে গেছে জানা গেছে তারা নাকি এখন বাঙ্করের আশ্রয় নিয়েছেন। আমেরিকার বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও তাদের পক্ষ থেকে এখনো সেভাবে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানো হয়নি এমনকি ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্বেও সৌদির পাশে তেল আবিব নেই।
চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর পূর্ব সৌদির ধাহরানে আছড়ে পড়ে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র। ওই শহরে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা আরামকোর সদর দফতর। ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের ছোড়া দূরপাল্লার হাতিয়ারের নিখুঁত হামলায় এর প্রশাসনিক ভবনে ধরে যায় আগুন। যদিও তাতে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ৮-১০ অক্টোবরের মধ্যে ক্ষেপনাস্ত্র ও ড্রোনে অন্তত তিন বার রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নিশানা করে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ফলে তড়িঘড়ি সেটি বন্ধ করে সৌদি প্রশাসন। অন্য দিকে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জেরে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রটিতে উড়ান বাতিল করেছে ভারতের ‘ইন্ডিগো’, ‘এয়ার ইন্ডিয়া’, ‘এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস’ এবং ‘আকাশ এয়ার’-এর মতো শীর্ষ বিমান সংস্থা।
ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনি বিদ্রোহীরা আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ানোয় চরম নিরাপত্তা সঙ্কটের মুখে পড়েছেন সৌদির যুবরাজ তথা প্রধামন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমন (এমবিএস)। জনপ্রিয় মার্কিন গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাঁকে। শুধু তাই নয়, ৬ অক্টোবরের পর থেকে ৪১ বছর বয়সী আরব রাজপুত্রকে একবারের জন্যেও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য, সৌদির আনাচকানাচে ছড়িয়ে আছে এমবিএসের একাধিক বিলাসবহুল বাংলো। যদিও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে চোখ ধাঁধানো রাজপ্রাসাদে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন তিনি। কিন্তু, সেগুলিতে হুথি হামলার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বাঙ্কারে সরতে হয়েছে তাঁকে। সূত্রের খবর, সেখানে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত একটি বাহিনী।
বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে সৌদিকে বাঁচাতে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রটিতে বিশাল ফৌজ ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রেখেছে আমেরিকা। যদিও রিয়াধের অভিযোগ, হামলার সময় শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করার তেমন গরজ দেখাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। উল্টে, হুথিদের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের মনোভাব যথেষ্টই ঢিলেঢালা। যার জেরে ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের হাতে যখন তখন মার খেতে হচ্ছে রিয়াধকে।
বর্তমানে সৌদিতে দু’টি অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) ব্যবস্থা মোতায়েন রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেগুলি হল, প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অলটিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড। চলতি বছরের অক্টোবরে হওয়া হুথিদের যাবতীয় হামলা আটকাতে ব্যর্থ হয় এই দুই হাতিয়ার। সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াধের মাথায় উপর থেকে ধীরে ধীরে হাত সরাচ্ছে আমেরিকা। যার চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে এমবিএসকে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের এই যুক্তি ফেলে দেওয়ার নয়। কারণ, সৌদিতে হুথি আক্রমণ শুরু হওয়া ইস্তক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়ে আসছেন যুবরাজ সলমন। ব্যক্তিগত স্তরে ‘পোটাস’-এর (প্রেসিডেন্ট অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস) যথেষ্ট সুসম্পর্ক রয়েছে তাঁর। কিন্তু, তার পরেও ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামার ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে ওয়াশিংটন।
অন্য দিকে, বিমান হামলায় হুথিদের সমূলে ধ্বংসের ছক কষছে ইসরাইল। ইতিমধ্যেই সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন ইহুদি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তেল আভিভের সাহায্য নিতে হলে তাদের বায়ুসেনাকে আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দিতে হবে সৌদিকে। ধর্মীয় কারণে যাতে সিলমোহর দেওয়া এমবিএসের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। এতে গৃহযুদ্ধের মুখে পড়ে রাজপাট খোয়াতেও হতে পারে তাঁকে।
১৯৪৮ সালে আরব দুনিয়ায় স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে ইজ়রায়েল। তার পর কেটে গিয়েছে ৭৮ বছর। কিন্তু, এখনও ছোট্ট এই ইহুদি দেশটিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দেয়নি সৌদি আরব। ফলে, দু’তরফে নেই কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক। উল্টে, ধর্মীয় কারণে প্রথম দিন থেকেই প্যালেস্টাইনকে সমর্থন করে এসেছে রিয়াধ। শুধু তাই নয়, বারবার তেল আভিভের অস্তিত্ব মুছে দেওয়ার কথাও বলতে শোনা গিয়েছে তাদের।
এই পরিস্থিতিতে হুথিদের ধ্বংস করেত ইসরাইলের সাহায্য নেওয়া সৌদির কাছে ‘খাল কেটে কুমির আনা’র সামিল। শেষ পর্যন্ত এনবিএস তাতে সবুজ সঙ্কেত দিলে আরব রাষ্ট্রটির অভ্যন্তরে জ্বলে উঠতে পারে বিদ্রোহের আগুন। আর তাই আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাহায্যের জন্য পথ চেয়ে বসে থাকতে হচ্ছে তাঁকে।
Advertisement

