সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা এবার অবস্থানে বসবেন মোদি সরকারকে হুঁশিয়ারি শীর্ষ আদালতের! কেন এই হুঁশিয়ারি? রহস্য?
বাংলার জনরব ডেস্ক : কোকরোজ জনতা পার্টির অবস্থান বিক্ষোভ একদিকে চলছে অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর একযোগে আক্রমণ মোদী সরকারকে ঠিক সেই সময় সুপ্রিমকোর্ট মোদি সরকারকে হুমকি দিয়ে জানিয়ে দিল এবার তারাও অবস্থানে বসবে। কেন এ কথা বলল সুপ্রিম কোর্ট? বিষয়টি হচ্ছে দিল্লির রাস্তায় পথচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব এই নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত! রাজধানী শহরে যদি পথচারীদের রাস্তায় চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না থেকে তাহলে কি হতে পারে তা নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করেছে সুপ্রিম কোর্ট! আইনি খবর পরিবেশকারী ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না-করা হলে বিচারপতিরা অবস্থান শুরু করবেন। যদিও ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’ অনুযায়ী, হালকা মেজাজেই এই মন্তব্য করেছে আদালত।
মথুরা রোডে দিল্লি হাই কোর্টের মোড় এবং ন্যাশনাল জ়ুলজিক্যাল পার্কের কাছে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা নিয়ে মামলা। ওই এলাকায় পথচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। এই সব ক্রসিং পেরিয়ে বহু মানুষ প্রতিদিন হাই কোর্টে যাতায়াত করেন। ওই পরিকাঠামোগত সুবিধার অভাব নিয়ে একটি মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের এজলাসে। গত মাসের শুনানিতে আদালতকে জানানো হয়, সরকারের তরফে সেখানে ট্রাফিক সিগন্যাল বসানো হয়েছে। কিন্তু সেটি বিভিন্ন সময়ে কাজ করে না বলেও আদালতকে জানানো হয়।
শীর্ষ আদালত জানায়, শুধু তাতে হবে না। হাই কোর্টের কাছের ওই ক্রসিংয়ে গাড়ির গতিতে লাগাম টানার জন্য বাম্পার এবং রাম্বল স্ট্রিপ (রাস্তার উপর উঁচু-নীচু দাগ বা খাঁজ, যার উপর দিয়ে গাড়ি গেলে ঝাঁকুনি অনুভূত হয়)।
এর পরে চলতি মাসের শুরুতে ফের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, হাই কোর্ট এবং চিড়িয়াখানার সামনে দ্রুত পথচারীদের রাস্তা পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। গত শুক্রবার মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য উঠলে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বিক্রমজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ক্রসিংটিতে কী কী করা প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্র একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। তাতে আদালতের মন্তব্য, “কমিটি হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করতে হবে। না হলে মুখ্যসচিবকে ডেকে পাঠানো হবে।”
‘লাইভ ল’ অনুযায়ী, এই বিষয়ে মন্তব্যের সময়েই এক পর্যায়ে কেন্দ্রকে মৌখিক ভাবে সতর্ক করে দেয় দুই বিচারপতির বেঞ্চ। আদালতের মন্তব্য, ২৫ নভেম্বরের মধ্যে কোনও পদক্ষেপ না-করা হলে, সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের বাইরে অবস্থানে বসবেন বিচারপতিরা।

