“বিচার বিভাগকে কেউ ভয় দেখাতে পারে না।” বলে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি মিছিল করার দায়ে এবার রাহুলকে নোটিশ দিল সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করা নিয়ে এ বার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। ওই আচরণের জন্য তাঁর জবাব তলব করেছে আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য, “বিচার বিভাগকে কেউ ভয় দেখাতে পারে না।” মামলার পরবর্তী শুনানির দিনই এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে বলা হয়েছে। রাহুলের পাশাপাশি নোটিস পাঠানো হয়েছে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকেও।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেছে ‘ইন্ডিয়া’র প্রতিনিধিদল। গত সোমবার প্রধান বিচারপতি কান্তের সঙ্গেও দেখা করতে চেয়েছিলেন রাহুলেরা। কিন্তু সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি। কেন দেখা করা সম্ভব নয়, সে বিষয়ে চিঠিও পাঠান রাহুল এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে। পরে ওই দিনই মিছিল করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এসআইআরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন রাহুলেরা। ওই দিনের কর্মকাণ্ডের জন্য এ বার রাহুলের জবাব চাইল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
পাশাপাশি রাহুলদের করা মামলার প্রেক্ষিতেও নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠিয়েছে আদালত। ওই মামলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অপর দুই কমিশনার সুখবীর সিংহ সন্ধু এবং বিবেক জোশীর কাছ থেকে জবাব চেয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
সম্প্রতি যন্তর মন্তরকে দিল্লির ‘নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের’ তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেও পৃথক একটি মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার ওই মামলাটিও শুনানির জন্য ওঠে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ। তাতে কেন্দ্রের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, একটি নির্ধারিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেও যন্তর মন্তর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় কেন্দ্র এবং দিল্লি পুলিশের বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য, “তারা জবাব দিক। উত্তর সন্তোষজনক না হলে, আইন আইনের মতো চলবে।”

