বাঘ বাঁচাতে বিধবা মায়েদের মিছিল, সুন্দরবন রক্ষার বার্তা মিলন উৎসবে
এস রোজলিন: কলকাতা: সুন্দরবনের বাঘ-বিধবা মায়েদের পাশে দাঁড়ানো এবং সুন্দরবনের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণ রক্ষার বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হল এক বিশেষ মিলন উৎসব। সম্প্রতি বাসন্তীর শিবগঞ্জে চম্পা মহিলা সোসাইটি প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষবন্দনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। সুন্দরবনের অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে কলকাতা-সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
ব্যবসার কাজে সুন্দরবন ও কলকাতায় আসা কয়েকজন ইউরোপীয় নাগরিকও এদিন উপস্থিত ছিলেন। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদী-খাঁড়ি, বাদাবন এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতা ধরা পড়ে ক্যামেরায়। তাঁদের এই আগ্রহ সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে। সুন্দরবনের নদী, নদীবাঁধ, বন্যপ্রাণ এবং বাদাবন রক্ষার দাবিতে এদিন একটি বর্ণাঢ্য পথ মিছিলের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় সুন্দরবনের সুরক্ষায় একটি সুপরিকল্পিত মাস্টার প্ল্যান এবং একটি প্রকৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিও ওঠে। শারদোৎসব উপলক্ষে বাঘ-বিধবা মা এবং বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবী ও মৌলেদের হাতে নতুন পোশাক, মশারি, গামছা, খাদ্যসামগ্রী এবং স্বাস্থ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের দাবি, পাঁচশোরও বেশি অসহায় পরিবারের হাতে এই সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের কর্ণধার তথা প্রাক্তন শিক্ষক অমল নায়েক বলেন, “সুন্দরবনের এই সংগ্রামী মায়েদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ। তাঁদের কাছে এই মায়েরা জীবন্ত দুর্গা। তাঁদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের জীবনে কিছুটা আনন্দ ফিরিয়ে দেওয়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
এদিনের অনুষ্ঠানে অভিনেতা জাক, প্রসেনজিৎ চৌধুরী, শিল্পী পাইক, সঙ্গীতা ঘোষ, কুমুদ কর-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অর্ঘ্য নায়েক। জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও হাসিমুখে অনুষ্ঠানে যোগ দেন সুন্দরবনের সংগ্রামী মায়েরা।

