“আমরা বিজেপিকে ধ্বংস করে দেব” নির্বাচন সদনের কাছে অবস্থান বিক্ষোভ থেকে ঘোষণা রাহুলের
‘ভোটচুরি’র অভিযোগে ফের এক বার বিজেপি-কে বিঁধলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল করেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদেরা। কিন্তু তাঁদের নির্বাচন সদন পর্যন্ত যেতে দেয়নি পুলিশ। তার আগেই আটকে দেয়। আটকও করে বেশ কয়েক জনকে। এরই মধ্যে রাহুল ঢুকে পড়েন নির্বাচন সদনের কাছে আকাশবাণী অফিস চত্বরে। আপাতত সেখানেই বসে রয়েছেন তিনি। আকাশবাণী অফিস চত্বর থেকেই এ বার নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমারকে এক বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ শানালেন তিনি।
এ দিন বিরোধীদের নির্বাচন সদন অভিযান ঘিরে যে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়, যে ভাবে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আকাশবাণী অফিসে ঢোকার চেষ্টা করেন রাহুল, তা নিয়ে খোঁচা দিতে শুরু করেছে বিজেপি। পদ্মশিবিরের দাবি, রাহুলকে ফের এক বার রাজনীতিতে ‘লঞ্চ’ করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস। বিজেপির ওই খোঁচা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাহুল বলেন, “বিজেপি কী বলল, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমরা শুধু ওদের মোকাবিলাই করছি না। আমরা ওদের ধ্বংস করে দেব।”
মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ সংসদের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন সদন অভিমুখে মিছিল শুরু করেন ‘ইন্ডিয়া’র প্রায় ৩০০ সাংসদ। প্রিয়ঙ্কা গাঁধী, মল্লিকার্জুন খড়্গেদের পাশাপাশি রাহুলের সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, সুপ্রিয়া সুলে-সহ বিরোধী শিবিরের বিভিন্ন নেতারা। নির্বাচন সদনের অদূরে নীতি আয়োগের অফিসের সামনে বিরোধী সাংসদদের আটকে দেয় পুলিশ। সেখানেই বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন রাহুল, অভিষেকরা। পরে সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে আটকও করে পুলিশ।
এরই মধ্যে আকাশবাণী অফিস চত্বরের ভিতর দিয়ে নির্বাচন সদনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন রাহুল। কিন্তু সেখানেও পুলিশ তাঁকে আটকে দেয়। দুপুরে আকাশবাণী অফিস চত্বর থেকেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে রাহুল বলেন, “আমি এখানে আছি দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য। আমার সঙ্গে আরও ৩০০ জন সাংসদ এখানে এসেছিলেন। তাঁরাও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে চান। অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদী, মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন।”
এর পরেই তাঁর সংযোজন, “নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং মোহন ভাগবত ‘ভোট চুরি’ করে দেশকে ‘হাইজ্যাক’ করে নিয়েছেন। জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের সাহায্য করেছেন। তাঁদের সকলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। তাঁরা আমাদের দেশের সঙ্গে যা করেছেন, তা বিশ্বাসঘাতকতা। কেউ-ই পার পাবেন না”
তিনি বলেন, “আমরা প্রায় ৩০০ জন সাংসদ জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের এখানেই আটকে দিয়েছে। আমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। অথচ কেন আমাদের এখানে আটকে রাখা হল, তা আমরা জানি না। নির্বাচন কমিশন মাত্র ৫০ গজ দূরে রয়েছি আমরা। কোথায় সমস্যা, আমরা বুঝে উঠতে পারছি না। বিরোধী দলের ৩০০ সাংসদ জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন, কিন্তু তিনি ভয় পেয়ে রয়েছেন। দেশে কী হচ্ছে? নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যদি নির্বাচন কমিশন দেখাই না করে, তা হলে গণতন্ত্রের মানে কী!”

