বিপাকে অভিষেক! স্কুল নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির সমস্ত তথ্য সিবিআইকে জানাতে চান পার্থ ঘনিষ্ঠ সন্তু!
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে তাঁর। গ্রেফতারও হয়েছিলেন। সিবিআই ও ইডি, দুই তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটেও নামও রয়েছে। সেই সন্তু গঙ্গোপাধ্যায় চান, দুর্নীতি নিয়ে সিবিআই-কে সব কিছু জানাতে। সিবিআই-কে লেখা এক চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়ে নিয়োগ মামলায় আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সবটা তদন্তকারীদের জানাতে পারেননি!
বেহালার বাসিন্দা সন্তু পেশায় ব্যবসায়ী। তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় পার্থ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই সিবিআই তদন্তে উঠে আসে সন্তুর নাম। বার বার তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই দফতরে হাজিরাও দেন তিনি। পরে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় সিবিআই। গ্রেফতার করে। বছরখানেক জেলে ছিলেন। বর্তমানে জামিনে মুক্ত। তার পর পরই রাজসাক্ষী হতে চেয়ে সিবিআই-কে চিঠি দেন সন্তু।
সূত্রের খবর, সন্তু সিবিআই-কে লেখা চিঠিতে দাবি করেছেন, অভিষেকের ভয়ে তিনি ‘চুপ’ ছিলেন। তদন্তকারীদের পুরো বিষয়টা জানাতে পারেননি। তবে এখন তিনি চান সিবিআই-কে পুরো বিষয়টা জানাতে। কী ভাবে তিনি এবং নিয়োগ দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষ টাকা পৌঁছে দিয়েছিলেন অভিষেককে, তা চিঠিতে জানান সন্তু।
চিঠির বয়ান অনুযায়ী, প্রাথমিকে নিয়োগের বিনিময়ে সন্তু এবং কুন্তলের কাছে থেকে পাঁচ কোটি টাকা চাওয়া হয়। কিন্তু পুরো টাকা তাঁরা জোগাড় করতে পারেননি। সন্তুর দাবি, তিনি ২২ লক্ষ এবং কুন্তল ৩.২৮ কোটি টাকা জোগাড় করতে পারেন। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা দু’টি কালো ব্যাগে ভরে নিউ আলিপুরের লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসের অফিসে নিয়ে যান তাঁরা। সেই টাকার ব্যাগ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে দেন। জানান, এতে দেড় কোটি কম আছে! টাকা কম আছে শুনে চটে গিয়েছিলেন সুজয়, দাবি সন্তুর। সুজয় বলেছিলেন, ‘‘সাহেব রেগে যাবেন।’’ তাঁর আরও দাবি, অভিষেকও টাকা কম দেখে চিৎকার করেন তাঁদের উপর। এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি টাকা জোগাড় দেওয়ার কথা বলেন। সন্তুর দাবি, তাঁরা কথা দিয়েছিলেন বাকি টাকা দিয়ে দেবেন। এ-ও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, বাকি টাকা না-দিলে তাঁদের প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হবে না। ওই সাড়ে তিন কোটি টাকা সুজয়কে সরিয়ে রাখতে বলেন অভিষেক, চিঠিতে দাবি করেন সন্তু। এই টাকা চাকরিপ্রার্থীদের থেকে এজেন্ট মারফত তোলা হয়েছিল।

