দেশ 

জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভের আগে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা যন্তর মন্তরে, পুলিশের সঙ্গে আপ সমর্থকদের ধস্তাধস্তি!

শেয়ার করুন

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দেশের দুই প্রান্তে দুই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যনগরীর শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আর দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র-যুব-নাগরিক সংগঠন। তার আগে ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করে যন্তর মন্তর চত্বর-সহ গোটা নয়াদিল্লি জুড়ে পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে!

শুক্রবার সকালে যন্তর মন্তর চত্বরে আম আদমি পার্টি (আপ) সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের একপ্রস্ত ধস্তাধস্তি হয়। আটক করা হয় দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী তথা আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজকে। যন্তর মন্তর থেকে একাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।

দিল্লি পুলিশের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যন্তর মন্তরে কোনও ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে ৮-৯ জায়গায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। পুলিশ এবং বিএসএফ আধিকারিকেরা চালকদের কাছে গন্তব্যস্থল জানতে চাইছে। গাড়ি এবং চালকদের তথ্য নোটবুকে লিখে রাখা হচ্ছে। এর মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে যে, যন্তর মন্তর চত্বরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আপ-এর দাবি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য তারা ছ’দিন আগেই পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু পরে পুলিশ অনুমতি না-দেওয়ার কথা জানায়। তবে অনুমতি না-মিললেও যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে, প্রচুর সংখ্যক ছাত্র-যুব এবং মহিলা যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন আপ নেতা সৌরভ।

শুক্রবার সকালেই দিল্লির ট্রাফিক পুলিশের তরফে নির্দেশিকা জারি করে শুক্রবার কনট প্লেস, পটেল চক, তলস্তয় মার্গ এবং সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকাগুলি এড়িয়ে চলার ‘পরামর্শ’ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার কারণে যন্তর মন্তরের আশপাশের মোট ১১টি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখা হয়েছে। এই স্টেশনগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নয়াদিল্লি, লোককল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, সেবাতীর্থ, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক।

সিজেপি জানিয়েছে, মুম্বইয়ের পর কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও গোয়ায় পালিত হবে তাদের ‘জেল ভরো’ কর্মসূচি। সিজেপি প্রধান দীপকে জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষে তাঁরা ফের দিল্লিতে যন্তর মন্তরে আন্দোলনে নামবেন। জ্ঞানেশ ইস্তফা না-দেওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। ঠিক যে ভাবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তর থেকে নিট-এর প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আন্দোলন চলেছিল।

বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ও শুক্রবার থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ অভিযান শুরু করছে। ৮ অক্টোবর জেলা পর্যায়ে দেশের সর্বত্র ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ পদযাত্রা এবং জেলাশাসকদের দফতরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশজোড়া ওই আন্দোলন-পর্বের মধ্যেই ৬ অক্টোবর সমস্ত বিরোধী দলের সাংসদদের নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ