জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে দফায় দফায় বিক্ষোভ, গ্রেফতার ৭০০, পুলিশি নির্যাতন নিয়ে সরব বিরোধীরা
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লির যন্তর মন্তর। দুপুর পর্যন্ত ৭০০-রও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। আটক করা হয়েছে সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, আপ নেত্রী তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মারলেনা, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, আইসা নেত্রী নেহা বোরাকে। প্রসঙ্গত, এই নেহাই যন্তর মন্তরে আরশোলাদের আন্দোলনে গোড়া থেকে জুড়ে ছিলেন।
আপের রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় সিংহের দাবি, সংসদে যাওয়ার সময় তাঁকে আটক করে পুলিশ। তার পরেই পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান গিয়ে ধর্না অবস্থানে বসে পড়েন সঞ্জয়। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখায় বাম ছাত্র-যুব সংগঠনগুলিও। স্লোগান ওঠে, ‘জ্ঞানেশ কুমার গদি ছাড়ো’। যন্তর মন্তর থেকে বিক্ষোভকারীদের টেনেহিঁচড়ে প্রিজ়ন ভ্যানে তোলে দিল্লি পুলিশ।
এই ভাবে বিক্ষোভকারীদের আটক করার নিন্দা করেছে বিরোধী দলগুলি। তাদের নিশানায় কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতাধীন দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে মমতা তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র সমাজমাধ্যমে লেখেন, “নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য কোনও অনুমতির প্রয়োজন নেই।” আইসা নেত্রী নেহার পাশে দাঁড়িয়ে মহুয়ার সংযোজন, “যা ইচ্ছা দিল্লি পুলিশ, তা-ই করুক। আমরাও দেখছি।”
শুক্রবার এসএফআই-ডিওয়াইএফআই কর্মীদের পাশাপাশি আটক করা হয় সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবিকেও। প্রিজ়ন ভ্যান থেকে তিনি বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার গণতন্ত্রের হত্যাকারী। অবৈধ কাজ করা মানুষদের গ্রেফতার না-করে আমাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।” বিক্ষোভকারীরা জ্ঞানেশের ইস্তফার পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা এবং অবৈধ উপায়ে নাম বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনরায় ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার সকালেই দিল্লির ট্রাফিক পুলিশের তরফে নির্দেশিকা জারি করে শুক্রবার কনট প্লেস, পটেল চক, তলস্তয় মার্গ এবং সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকাগুলি এড়িয়ে চলার ‘পরামর্শ’ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার কারণে যন্তর মন্তরের আশপাশের মোট ১১টি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখা হয়েছে। এই স্টেশনগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নয়াদিল্লি, লোককল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, সেবাতীর্থ, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক।
জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে বিকেলে মহারাষ্ট্রের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তারা জানিয়েছে, মুম্বইয়ের পর কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও গোয়ায় পালিত হবে তাদের ‘জেল ভরো’ কর্মসূচি। সিজেপি প্রধান দীপকে জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষে তাঁরা ফের দিল্লিতে যন্তর মন্তরে আন্দোলনে নামবেন। জ্ঞানেশ ইস্তফা না-দেওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। ঠিক যে ভাবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তর থেকে নিট-এর প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আন্দোলন চলেছিল।
বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ও শুক্রবার থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ অভিযান শুরু করছে। ৮ অক্টোবর জেলা পর্যায়ে দেশের সর্বত্র ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ পদযাত্রা এবং জেলাশাসকদের দফতরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশজোড়া ওই আন্দোলন-পর্বের মধ্যেই ৬ অক্টোবর সমস্ত বিরোধী দলের সাংসদদের নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা হবে।

