গভীর রাতে পাঁচিল টপকে ঘরে ঢুকে মহিলাকে গণধর্ষণ, নানুরের ঘটনায় চাঞ্চল্য
বিশেষ প্রতিনিধি : বীরভূমের নানুরে গভীর রাতে বাড়ির পাঁচিল টপকে ভিতরে ঢুকে এক মহিলাকে গণধর্ষণের অভিযোগ কয়েক জন যুবকের বিরুদ্ধে। শারীরিক এবং মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ‘নির্যাতিতা’ বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫ অগস্ট গভীর রাতে। পুলিশে অভিযোগ দায়েরের পর শনিবার তা প্রকাশ্যে এসেছে। ইতিমধ্যে এক জনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
‘নির্যাতিতা’র পরিবারের অভিযোগ, গত ৫ অগস্ট রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে কয়েক জন তাঁদের বাড়ির পাঁচিল টপকে বাড়িতে ঢোকেন। ওই সময় বাড়ির অদূরে শৌচাগারে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন পরিবারের মহিলা সদস্য। তাঁর মুখ চেপে ধরে খানিকটা দূরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্তদের হাতে অস্ত্র ছিল। চিৎকার-চেঁচামেচি করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় মহিলাকে।
ওই ঘটনা যখন ঘটছে, মহিলার স্বামী তখন বাড়িতেই ছিলেন। তিনি গোঙানি শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তখন অভিযুক্তেরা পালিয়ে যান বলে দাবি। স্বামীর দাবি, আগেও তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছেন গ্রামের কয়েক জন যুবক। সামাজিক সম্মানহানির ভয় এবং লজ্জায় তাঁর স্ত্রী প্রথমে বলতে পারেননি। অভিযোগ, ওই ঘটনার পর মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ‘নির্যাতিতা’ বিষপান করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল তাঁকে। এখন তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে মানসিক ভাবে তিনি বিপর্যস্ত বলে খবর।
পরিবারের দাবি, হাসপাতালে গিয়েও অভিযুক্তদের পরিবারের কেউ কেউ হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে দুই সন্তানকে মেরে ফেলার কথা বলা হয়েছে। ওই বিষয়টিও পুলিশকে জানিয়েছে ‘নির্যাতিতা’র পরিবার।
পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে তারা। বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি হুমকির বিষয়টিও আলাদা করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

