কলকাতা 

আমরা এখনো তৃণমূলে আছি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে জানালেন আবু তাহের ও খলিলুর রহমান!

শেয়ার করুন

শুক্রবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সরকারি বাসভবনে আয়োজিত প্রাতরাশ বৈঠকে উপস্থিত থাকার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন সমীকরণ তৈরি করলেন দুই সাংসদ আবু তাহের ও খলিলুর রহমান। শনিবার দুপুরে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন তাঁরা। এরপর নবান্নেই যেখানে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠক করেন সেখান থেকেই এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছেন এই দুই ‘বেসুরো’ এনসিপিআই (NCPI) প্রতিনিধি।

আগামী দিনে তাঁরা এনসিপিআই-তেই থাকবেন নাকি অন্য পথ বেছে নেবেন – সে প্রসঙ্গে দুই সাংসদ স্পষ্টভাবে জানান, “ভবিষ্যতে আমরা এই দলে থাকব কি থাকব না, তা একমাত্র সময়ই বলে দেবে।”

সাংবাদিক বৈঠকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাংসদ আবু তাহের বলেন, লোকসভার স্পিকার এখনও পর্যন্ত তাঁদের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) সাংসদ হিসেবেই ডাকছেন। যখন তাঁরা সংসদে বক্তব্য পেশ করছেন, তাঁদের নামের পাশে এআইটিসি-র নামই উল্লেখ করা থাকছে।

আবু তাহের জানান, “কাগজে-কলমে এনসিপিআই কিন্তু এখনও এনডিএ-র আনুষ্ঠানিক শরিক নয়। এনসিপিআই নামে ডাকলে অবশ্যই যেতাম, তবে আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি যে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি না।”

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য জানিয়ে দুই সাংসদ জানান, সাম্প্রতিক এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং রাজ্যজুড়ে মসজিদ থেকে মাইক ও লাউড স্পিকার খোলার জটিলতা নিয়েই কথা বলতে এসেছিলেন তাঁরা।

এসআইআর ইস্যুতে সাধারণ ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের সমস্যার কথা তুলে ধরে তাঁরা বলেন, অসংখ্য গরিব মানুষ পর্যাপ্ত তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে প্রথম দফায় ৭ লক্ষ মানুষের নাম তোলার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। অন্যদিকে, বাকি ২০ লক্ষ মানুষের ক্ষেত্রে আবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা যাতে অন্তত বাড়ানো হয়, সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য দুই পক্ষের কাছেই আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

মসজিদ থেকে মাইক খোলা নিয়ে দুই সাংসদের সংযোজন, অতি-উৎসাহী পুলিশি তৎপরতার কারণে বেছে বেছে বিশেষ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বেছে টার্গেট করা হবে না এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। দুই দিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রীকেও এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন দুই সাংসদ।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ