অসমের বন্যা বিপর্যস্ত দুর্গত মানুষের পাশে ভাইজান, ৫০০ বাড়ি তৈরি করার প্রতিশ্রুতি সলমান খানের
বাংলার জনরব ডেস্ক : অসমের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন প্রখ্যাত অভিনেতা সালমান খান। তাঁর তৈরি করা সংস্থা ‘বিইং হিউম্যান’ও এর পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে অসমের ৫০০ জন মানুষের বাড়ি তৈরি করে দেবেন সলমান খান।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম নেপালি খুঁটিতে প্রায় ২২০টি আধাপাকা বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন, প্রথম থেকেই এমন পরিকল্পনা করেছিলেন সলমন খান। তবে রণদীপ হুডাকে মাঠে নেমে ত্রাণকাজ করতে দেখে তিনি সেই পরিকল্পনা প্রয়োগ করতে আর দেরি করতে চাননি। এক পরিচিতের মাধ্যমে রণদীপের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন সলমন।
রণদীপ তখন সলমনকে জানান, ‘গ্লোবাল শিখস’ নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রায় ৭০ জন সদস্য একসঙ্গে ত্রাণকাজ করছেন। তাঁদের ঠিক কী ধরনের সাহায্য প্রয়োজন সেই ব্যাপারেও ভাইজানকে অবহিত করেন রণদীপ। ‘গ্লোবাল শিখস’-এর প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিংহ এর পরে সলমনকে জানান, বাঁশ ও টিন দিয়ে এমন আধাপাকা বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে, যা বন্যা প্রতিরোধী। প্রতিটি বাড়ি তৈরি করতে খরচ পড়ছে প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। এর পরই সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ৫০০টি বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন সলমন।
ত্রাণকাজের অগ্রগতি নিয়ে অমরপ্রীত সিংহ বলেন, “কয়েক দিন আগে সলমন খান আমাদের ফোন করে বলেছিলেন, ‘আপনারা চিন্তা করবেন না।’ এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর, আর তার মধ্যে নেপালি খুঁটি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। প্রথম দফায় ২২০টি বাড়ি তৈরি হয়েছে। এখন সেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রতিদিন আট থেকে দশটি করে বাড়ি তৈরি করতে পারছি।”
বন্যাবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান রণদীপও। তিনি পৌঁছে যান বন্যাকবলিত এলাকায়। দিনকয়েক আগে এক ভিডিয়োবার্তায় তিনি বলেছিলেন, “এটি শিবসাগর রেলস্টেশন। আশপাশের এলাকা থেকে বহু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা প্রতিদিন তাঁদের জন্য খাবার রান্না করে নিয়ে আসছি। গত সাত দিন ধরে এই কাজ চলছে। মানবতার চেয়ে বড় কিছু নেই। বহু বছর ধরে ‘গ্লোবাল শিখস’-এর সঙ্গে কাজ করছি। ওদের কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি সকলের কাছে আবেদন করব, যাঁরা যেমন পারেন, তেমন ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। শুধু এখানে নয়, যেখানেই মানুষ বিপদে পড়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।”
রণদীপের অনুরাগীরা বিষয়টির প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি সলমনের উদ্যোগেও মুগ্ধ হয়েছেন অনুরাগীরা।

