অনুদানপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপরতা অর্থ দফতরে, নির্দিষ্ট পোর্টালে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি
বাংলার জনরব ডেস্ক : শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে আসার আলো হিসাবে দেখা দিয়েছে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকার পর গ্র্যান্ড ইন কর্মীদের জন্য বকেয়া ডি এ ঘোষণা করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই বকেয়া (এরিয়ার) টাকা দেওয়ার নির্দেশিকা কার্যকর করতেই মূলত প্রশাসনিক পর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। অর্থ দফতর সূত্রে খবর, বিভিন্ন সরকারি দফতরের অধীনস্থ আইটি কর্মীদের (যারা বেতন ও অন্যান্য প্রশাসনিক পোর্টালে বিল সাবমিট করার দায়িত্বে থাকেন) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট পোর্টালে এই মুহূর্তে অন্য কোনও আর্থিক এরিয়ারের বিল জমা না দেওয়া হয়।
সরকারি কোষাগার থেকে যারা সরাসরি স্থায়ী বেতন পান না এমন অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মী—যেমন সরকার পোষিত বা অনুমোদিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধিবদ্ধ বোর্ড, কর্পোরেশন ইত্যাদির কর্মীদের ‘রোপা ২০০৯’ অনুযায়ী দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ-র অর্থ মিটিয়ে দেওয়াই এখন প্রাধান্য পাচ্ছে। সম্প্রতি অর্থ দফতরের কর্তাদের সঙ্গে অন্যান্য বিভাগের ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত দফতরকে তাদের নিজস্ব বেতন পোর্টালে (যেমন শিক্ষকদের ক্ষেত্রে আইওএসএমএস) বকেয়ার বিল সাবমিশনের জন্য আলাদা শাখা বা অপশন প্রস্তুত রাখতে হবে। এই প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরই বকেয়ার বিল সাবমিট করার পরবর্তী নির্দেশ পাঠাবে অর্থ দফতর।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে সুপ্রিম কোর্টে চলমান আইনি লড়াইয়ের পর এই বকেয়া ডিএ মিটানোর বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়েছে। তবে এই বকেয়া প্রদান প্রক্রিয়াটি সাম্প্রতিক রোপা ২০১৯ অনুযায়ী ঘোষিত ২০ শতাংশ ডিএ মিটানোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উপর ভিত্তি করে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া মেটানোর কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই অর্থ দফতর থেকে প্রতিটি বিভাগের নোডাল অফিসার এবং আইটি পার্সোনালদের সতর্ক থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘আমরা নির্বাচনের আগে থেকেই দাবি করছিলাম যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো আমাদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু মমতা ব্যানার্জীর সরকার কর্ণপাত করেনি। লোকদেখানো কিছু সরকারি কর্মচারীকে ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সামান্য টাকা দিয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক শিক্ষাকর্মী ও গ্র্যান্ট-ইন-এড কর্মীদের চাপ আরও বাড়ে। অবশেষে সরকার নড়েচড়ে বসল। আমরা আশা করব পুজোর আগেই একটা ইনস্টলমেন্ট আমাদের দেওয়া হবে।’’ তথ্য সূত্র: ডিজিটাল আনন্দবাজার

