কলকাতা 

তোলাবাজি করলে রেয়াত করা হবে না শমীক – দিলীপের পর অগ্নিমিত্রা পাল দলীয় কর্মীদের সতর্ক করলেন

শেয়ার করুন

শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষের পর এ বার অগ্নিমিত্রা পালও। তোলাবাজি নিয়ে বিজেপি কর্মীদের সতর্ক করে দিলেন তিনি। জানালেন, কাউকে রেয়াত করা হবে না। তোলাবাজির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি তোলাবাজি প্রসঙ্গে বিজেপি কর্মীদের সতর্ক করেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক। ১৫ দিন সময় দিয়ে জানান, এর মধ্যে শুধরে না গেলে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বিজেপি কী জিনিস!

তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতি, কাটমানি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেটকেই বিরোধিতার প্রধান হাতিয়ার করেছিল বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে ভোটের আগে এ নিয়ে ঢালাও প্রচার করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেও কোথাও কোথাও সেই সমস্যা থেকে গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা সোমবার বলেন, ‘‘তোলাবাজির বিষয়টা থেকে তো যাবেই। সবাইকে তো আমরা ডিটার্জেন্ট বা ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে আনিনি। তারা তো রক্তমাংসের মানুষ। এখন সরকারে এসেছে। অনেকে ভাবছে, এ ভাবে রোজগার করব। কিন্তু আমাদের রাজ্য সভাপতি, মুখ্যমন্ত্রী এর বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন।’’ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে চারটি হেল্পলাইন নম্বর খোলা হয়েছে, জানান অগ্নিমিত্রা। বলেন, ‘‘বেআইনি টোল ট্যাক্স, বেআইনি সিন্ডিকেট, তোলাবাজি আর মদের ঠেক নিয়ে চারটে হেল্পলাইন নম্বর তো দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষ সেখানে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।’’

তবে অকারণে বা নিজস্ব উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য কেউ হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘আপনি সামনে আসতে চান না, ফোন করে অভিযোগ জানান। কিন্তু নিজস্ব অ্যাজেন্ডা নিয়ে যদি কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন, আপনার নম্বরও তো থাকবে। আপনাকেও ধরা হবে।’’ তোলাবাজি প্রসঙ্গে দলের অবস্থান আরও এক বার স্পষ্ট করে দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। বলেছেন, ‘‘এ ব্যাপারে আমাদের রাজ্য সভাপতির কথাই চূড়ান্ত। তিনি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন এগুলো করলে দল থেকে বার করে দেওয়া হবে। সম্ভবত বহিষ্কার করাও হয়েছে কয়েক জনকে। আমরা এ নিয়ে কোনও ডিল করি না। সামনে একটা কথা বলব, আর ভিতরে ভিতরে বলব তোলাবাজি চালিয়ে যাও, ৭০-৩০ শতাংশ হিসাবে ভাগ করো— এগুলো আমরা করি না। আমরা আগের সরকারের মতো নই। যা বলি, সেটাই করি।’’

সোমবারও তোলাবাজি নিয়ে দলের কর্মীদের সতর্ক করেছেন দিলীপ। জানিয়েছেন, দল বিষয়টির দিকে নজর রেখেছে। ইতিমধ্যে ২০০-র বেশি কর্মী সাসপেন্ড হয়েছেন। দিলীপের কথায়, ‘‘তোলাবাজি সংস্কৃতি তো এত সহজে উঠে যাবে না। তবে পার্টি নজর রেখেছে। বিজেপির কেউ তোলাবাজি করলে পুলিশ আর দলকে জানান। সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর অধিকার আছে। ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আমরা সাসপেন্ড করেছি। প্রক্রিয়া চলছে।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ