ছাত্রবিক্ষোভকে ঢাল বানিয়ে কোনও ‘দুষ্কৃতী’ যেন ছাড় না পায়: সুপ্রিম কোর্ট
বাংলার জনরব ডেস্ক : ছাত্রবিক্ষোভকে ঢাল বানিয়ে কোনও ‘দুষ্কৃতী’ যেন পার না পেয়ে যায়। সোমবার স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। কে পড়ুয়া, কে দুষ্কৃতী— তার ফারাক করার উপরে জোর দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে যে পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘বাড়াবাড়ির’ অভিযোগ উঠেছে, তাঁদেরও ছাড় পাওয়া উচিত নয় বলেছে শীর্ষ আদালত।
গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবরা ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন। ওই অভিযানে আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ। পুলিশি ‘বাড়াবাড়ির’ অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন আন্দোলনকারীরা। আবার পুলিশকর্মীদের উপরেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়ে পাল্টা মামলা করেছে জখম পুলিশকর্মীদের পরিবার।
সোমবার আদালত স্পষ্ট করে দেয়, দুই ধরনের অভিযোগই গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য, “কোনও পুলিশকর্মী বাড়াবাড়ি করলে তাঁকে অযথা আড়াল করা উচিত নয়। আবার ছাত্রবিক্ষোভের আড়ালে কোনও দুষ্কৃতী পার পেয়ে যাচ্ছে— এমনটাও যেন না হয়।”
নিট প্রশ্ন ফাঁসে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ছাড়াও আরও যে যে শর্তে ককরোচ জনতা পর্টি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল, তার অন্যতম হল, বিক্ষোভকারীদের উপর থেকে সমস্ত মামলা তুলে নিতে হবে। কিন্তু আন্দোলন উঠে গেলেও সরকার এই শর্ত পুরোপুরি মানছে না বলে অভিযোগ ছিল ককরোচদের। ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বলে, বিক্ষোভে যুক্ত কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীত অপরাধের নজির থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চালানো যেতে পারে। এই নির্দেশের সঙ্গে সহমত হননি আন্দোলনকারীরা। কী ধরনের অপরাধের নজিরকে মামলা চালিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে গণ্য করা হবে, অথবা অতীতে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল বলেই তিনি এই নির্দেশের আওতায় পড়বেন কিনা, এই প্রশ্ন বিতর্ক তৈরি হয়। বলা হয়, রাজনৈতিক কারণে অনেকের বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। বস্তুত, দেশের সাংসদদের একটা বড় অংশের বিরুদ্ধেই এমন বহু মামলা রয়েছে। ফলে এই ধরনের ব্যক্তিদের ‘দাগি’ হিসেবে গণ্য করাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত সেই প্রশ্নও ওঠে। এই তর্কের ব্যাখ্যা দিয়ে শীর্ষ আদালত এ দিন বলেছে, শুধু গুরুতর এবং জঘন্য অপরাধের অভিযোগকেই এফআইআর না তোলার কারণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
গত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এ-ও বলেছিল, দায়ের হওয়া এফআইআর-এ ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে রাজ্যগুলি। আন্দোলনকারীদের আইনজীবী বলেন, এই নির্দেশটি এফআইআর প্রত্যাহারের পথে ‘বাধা’ হয়ে উঠতে পারে। আদালত জানিয়েছে, রাজ্যগুলি আইন মেনে স্বাধীন ভাবে পদক্ষেপ করার অধিকার আছে। তারা চাইলে আন্দোলনকারীদের উপর থেকে এফআইআর প্রত্যাহার করতে পারে। তবে শর্ত সেই একটাই— সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে অতীতে কোনও গুরুতর বা জঘন্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা চলবে না।
তবে প্রতিবাদীদের উপরে ‘পুলিশি জুলুম’ এবং বাহিনীর উপরে হামলা— দুই ঘটনারই নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। গত শুনানিতেই আদালত জানিয়েছিল, একটি সিট গঠন করা হতে পারে। কিংবা অবসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে কোনও কমিটি গঠিত হতে পারে। এ দিন ফের সেই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। আগামী ১৮ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি। সে দিনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

