কলকাতা 

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসছে! ২০১৮ সালে নয়া সিলেবাস !

শেয়ার করুন

রাজ্যের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ তৈরির কাজ শুরু করল সিলেবাস কমিটি। মঙ্গলবার সল্টলেকের বিদ্যাসাগর ভবনে নবগঠিত এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণ (Dipak Burman) জানিয়ে দিলেন, আগের সরকারের মতো হুটহাট করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে (School Syllabus) বিদ্যমান পাঠ্যবইগুলিই বহাল রেখে মূলত পর্যালোচনা বা ‘রিভিউ’ করা হবে। তবে ২০২৮ সালে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা ও পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পুনর্গঠন আনার স্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এ দিনের বৈঠকে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণ, শিক্ষা দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী এবং শিক্ষা সচিব বিনোদ কুমার উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই সিলেবাস কমিটির সদস্য অরিন্দম ব্যানার্জি ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা দফতরের শীর্ষ আধিকারিকেরা বৈঠকে অংশ নেন। আমন্ত্রিতদের তালিকায় ছিলেন বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব তথাগত রায়ও।

বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সময় কম থাকায় ২০২৭ সালের জন্য নতুন করে পাঠ্যসূচিতে কোনও রদবদল হচ্ছে না। প্রথা মেনে ২০২৭ সালের ২ জানুয়ারি ‘বই দিবস’-এর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে ২০২৮ সালের নতুন কারিকুলাম ও সিলেবাসের খসড়া বা ড্রাফট সম্পূর্ণ তৈরি হওয়ার পর তা জনসমক্ষে আনা হবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের কাছে মতামত চাওয়া হবে। সেমিস্টার পদ্ধতি কিংবা ‘পাস-ফেল’ প্রথা ফেরানোর মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP)-র নির্দেশিকা মেনে ২০২৮ সালের নতুন পাঠ্যক্রমেই বিবেচনা করা হবে।

পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রতিক অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাবলি— বিশেষ করে সিঙ্গুর আন্দোলন বা বেচারাম মান্নার ইতিহাস থাকা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “পাঠ্যক্রমে কোনও রাজনীতি থাকবে না, থাকবে ভীতিমুক্ত পরিবেশ ও বিজ্ঞানমনস্কতা। সিঙ্গুর বা সাম্প্রতিক ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে রাখা যুক্তিসঙ্গত কি না, তা শিক্ষাবিদেরাই বিবেচনা করবেন। সিলেবাস কমিটি যে পরামর্শ বা সুপারিশ দেবে, সরকার সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।” একইভাবে ‘রামধনু’ শব্দের ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি জানান, সিলেবাস কমিটি যদি মনে করে বর্ণচ্ছটা বোঝাতে ‘রামধনু’ শব্দটিই সর্বাধিক উপযুক্ত, তবে সেটিই থাকবে। কমিটির উপর কোনও রকম রাজনৈতিক চাপ দেওয়া হবে না।

শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, রাজ্য সরকার কোনও অহমিকায় ভোগে না। বিগত সরকারের আমলে চালু হওয়া ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলি যেমন চলছে, তেমনই চলবে; সেগুলির মানোন্নয়নে নতুন প্রস্তাবও ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি উর্দু বা অন্য কোনও ভাষা বাংলাকে গ্রাস করবে— এমন কোনও আশঙ্কার যৌক্তিকতা নেই বলেও তিনি জানান। তবে সংস্কৃত ভাষাকে আরও জনপ্রিয় করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

অন্য দিকে, এ দিনের বৈঠকে আমন্ত্রিত হিসেবে যোগ দিয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন তথাগত রায়। তিনি জানান, পাঠ্যপুস্তক সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক রাখা উচিত এবং সেখানে সিঙ্গুর আন্দোলনের মতো বিষয়ের স্থান থাকা উচিত নয়। তার পরিবর্তে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান এবং পূর্বতন সরকারের আমলে ‘বিস্মৃত’ বা উপেক্ষিত অরাজনৈতিক মনীষীদের সঠিক ইতিহাস পাঠ্যক্রমে তুলে ধরার আর্জি জানান তিনি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ