‘পড়ুয়াদের উপর ছররা গুলি ছোড়ার অনুমতি কি আপনিই দিয়েছিলেন?’ যন্তর মন্তরে পুলিশি নির্যাতন নিয়ে শাহকে চিঠি রাহুলের
বিশেষ প্রতিনিধি : যে আশঙ্কাটা দেশবাসী করছিলেন সেই আশঙ্কাটাই সত্য হতে চলেছে। দিল্লিতে আন্দোলনকারী ছাত্র যুবদের উপরে দিল্লি পুলিশ পেলেট গান দিয়ে গুলি ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছেন,পড়ুয়ারা স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। তাঁদের উপর ছররা গুলি কেন ছোড়া হল? তা কি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই হয়েছিল? তাঁর প্রশ্ন, যদি শাহ সেই নির্দেশ না দিয়ে থাকেন, তা হলে কে দিলেন? সাধারণ পোশাকে যাঁদের ছাত্রদের মারধর করতে দেখা গিয়েছে, তাঁরা কারা?
যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। ২৫ জুলাই শাহকে চিঠিটি লিখেছেন রাহুল। তবে প্রধানের ইস্তফার আগে না পরে সেই চিঠি তিনি দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। রবিবার সকালে সেই চিঠি নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন রাহুল। এর আগেও ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ার অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। আহত এক জনকে সাংবাদিকদের সামনে হাজিরও করিয়েছিলেন।
অভিযোগ, নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ অভিযানের সময় পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়া হয়। তাতে আহত হন বেশ কয়েক জন প্রতিবাদী। রাহুলের দাবি, আহত এক পড়ুয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতেও ছররার আঘাতের উল্লেখ রয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশ দাবি করে, তারা ছররা গুলি ছোড়েনি। আরপিএফ-কে এই নিয়ে অনুসন্ধান করতে বলেছে সিআরপিএফ। শনিবার শাহকে দেওয়া চিঠিতে সেই বিষয়ের কথাই উল্লেখ করেন রাহুল। তিনি লেখেন, ‘‘২০ জুলাই পড়ুয়াদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যে বর্বরোচিত আঘাত করা হয়েছে, তার জবাব চাইছি।’’ রাহুলের কথায়, তাঁরা স্বচ্ছ শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে পথে নেমেছিলেন। তাঁদের দাবি শোনার পরিবর্তে আঘাত করেছে বাহিনী। রাহুলের দাবি, শয়ে শয়ে পড়ুয়া আহত হয়েছেন। মহিলা আন্দোলনকারীদের মারধর এবং তাঁদের গোপনাঙ্গ লক্ষ্য করে আঘাত করার অভিযোগও তুলেছেন রাহুল।
শাহকে এই প্রসঙ্গে দু’টি প্রশ্ন করেন রাহুল। এক, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে তিনি কি পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ার অনুমতি দিয়েছিলেন? যদি তিনি না দেন, তবে কে দিলেন? দুই, সাধারণ পোশাকে যাঁরা পড়ুয়াদের লাঠিপেটা করছিলেন, তাঁরা কি পুলিশ, না কি স্বেচ্ছাসেবী? কারা তাঁদের নিয়োগ করলেন? রাহুল জানান, প্রতিবাদীদের রক্ষা করা, তাঁদের কথা শোনার দায়িত্ব আসলে সরকারের। কিন্তু এই সরকার তা করেনি। তাঁর কথায়, ‘‘পড়ুয়ারা, আমাদের দেশের ভবিষ্যতেরা এ বার তার জবাব চাইছে।’’
ছররা লেগে আহত সাহিল লোহছাবকে নিয়ে গত শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছিলেন রাহুল। তিনি ওই যুবকের শরীরের ক্ষত দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘‘সরকার ছররা ছোড়ার কথা অস্বীকার করছে। কিন্তু এই যে তার প্রমাণ!’’ এর পরেই তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, ‘‘সরকার এ বার মিথ্যা বলা বন্ধ করুক। ওরা ভারতের ভবিষ্যৎকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে।’’ এ বার তিনি সেই ঘটনার উল্লেখ করে চিঠি দিলেন শাহকে।
শনিবার ধর্মেন্দ্রের ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। তাঁর মুখে শোনা যায় বিজেপির আদর্শের কথা। শাহের মতে, বিজেপির বিশ্বাস দেশ, পড়ুয়া এবং যুবকদের স্বার্থ কখনই কোনও রাজনৈতিক পদের চেয়ে বড় হতে পারে না। ধর্মেন্দ্রের ইস্তফা সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। তাঁর আরও দাবি, ‘দেশবিরোধী শক্তি’ পড়ুয়াদের এই আন্দোলনকে কাজে লাগাচ্ছে। সেই দাবির পুনরাবৃত্তি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে ‘দেশবিরোধী শক্তিগুলির’ লাভবান হওয়ার স্বপ্নে ধাক্কা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। রাহুল যদিও ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে এক সারিতে বসিয়ে শাহকে বিঁধেছেন।

