দেশ 

ত্রিপুরার দুটি বিধানসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী দেবে না তৃণমূল কংগ্রেস

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ত্রিপুরার দুটি বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবে না বলে জানিয়ে দিল ত্রিপুরার দায়িত্ব প্রাপ্ত তৃণমূল নেতা রাজিব বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছর ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে ঘটা করে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস কিন্তু একটি আসন ও পায়নি। বরং তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি আসনের বাম কংগ্রেস প্রার্থী হেরে যান। ফলে খুব সহজেই বিজেপি ত্রিপুরাতে বিজয় হাসিল করতে পেরেছিল তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকতো কিংবা বিজেপি বিরোধী ভোটে ভাগ না বসাত তাহলে হয়তো ত্রিপুরা নির্বাচনের ফলাফল অন্য হত।

কিন্তু হঠাৎ করতে উপনির্বাচনের প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অনেকেই বলছেন জাতীয় রাজনীতিতে যে জোট হয়েছে সেই জোটের বাধ্যবাধকতায় তৃণমূল নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ধনপুর ও বক্সনগর কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে ত্রিপুরায়। ধনপুর থেকে বিধানসভা ভোটে লড়েছিলেন বিজেপির প্রতিমা ভৌমিক। প্রতিমা এখন লোকসভার সাংসদ তথা কেন্দ্রের মন্ত্রী। জিতে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সাংসদ পদ রেখে দেন গেরুয়া শিবিরের এই নেত্রী। সেই কারণে ধনপুরে উপনির্বাচন হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ভোটে ধনপুর দখল করা ছিল বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মানিক সরকার এই কেন্দ্র থেকেই জিততেন। ২০১৮ সালে প্রতিমাকে হারিয়ে জিতেছিলেন মানিক। সে বার সরকার বদল হওয়ার পর মানিককে বিরোধী দলনেতা করেছিল সিপিএম। গত ভোটে অবশ্য মানিক লড়েননি। দলের অনুরোধ সত্ত্বেও ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন বর্ষীয়ান এই নেতা। মানিক সরতেই ধনপুর জিতে নেয় বিজেপি। বক্সনগর কেন্দ্রটি ছিল সিপিএমের দখলে। বিধায়ক সামসুল হকের মৃত্যুর কারণে সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে হওয়া ভোটে ৬০ আসনের ত্রিপুরা বিধানসভায় বিজেপি-আইপিএফটি জোট জিতেছিল ৩২টি আসনে। তিপ্রা মথা একক ভাবে পায় ১৩টি আসন। সিপিএম-কংগ্রেস জোট পায় ১৪টি আসন (সিপিএম ১১টি, কংগ্রেস তিনটি)। ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল, মথার ভোট কাটাকাটির জন্য অন্তত ১৯টি আসন হারাতে হয়েছে সিপিএম-কংগ্রেসকে। সেই সময়ে ত্রিপুরা সিপিএমের নেতারা প্রকাশ্যেই বলতেন, মুখে বড় বড় কথা বললেও বিজেপিকে সাহায্য করে দিয়েছে মথা। যদিও উনির্বাচনে মথাকে পাশে পেতে মরিয়া সিপিএম। ইতিমধ্যে সিপিএমের ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীর সঙ্গে মথার নেতা অনিমেষ দেববর্মার বৈঠক হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মথা কী করবে তা সোমবার রাত পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তৃণমূলের এই প্রার্থী দেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে ত্রিপুরায় আদৌ সুবিধা করে দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ