মমতা আক্রান্ত বীজপুরে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ছোড়া হল কাদা-ছেঁড়া চটি, দেওয়া হল চোর স্লোগান
কাঁচরাপাড়ায় পুলিশি হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিজেপির বিক্ষোভে মুখে পড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হল। ছোড়া হল কাদা-ছেঁড়া চটি। দেওয়া হল ‘চোর-চোর’ স্লোগান।
বিজেপির অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উস্কানি দিতে এসেছেন কাঁচরাপাড়ায়। সাধারণ মানুষ তার প্রতিবাদ করেছে। অন্য দিকে, মমতা তোপ দাগেন রাজ্য সরকারকে। পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি গুন্ডাদের দিয়ে এই কাজ করেছেন। মমতা বলেন, ‘‘নিরাপত্তা ভুলে যান। লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ! বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব।’’ তিন বারের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর গাড়িতে বড় বড় ইট ছোড়া হয়েছে। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ‘‘আমার মাথা ফেটে যেত। এখানে মরে যেতাম। পুলিশ বিজেপিকেই প্রোটেকশন দিচ্ছে।’’
মমতার সঙ্গে ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। তাঁরাও বিক্ষোভের মুখে পড়ে ক্ষোভ উগরে দেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। কল্যাণ বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ দিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছেন। মাফিয়াদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।’’ বীজপুরের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে রাখতে হয় পুলিশকে।
উল্লেখ্য, তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে আদালতেও হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক তাঁর পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু শনিবার জানা যায়, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামীর। জেনির অভিযোগ, লকআপের ভিতরে পুলিশের মারধরে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের তরফে এই ঘটনায় কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রবিবার মমতা কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বলেন, ‘‘এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে আর কিছু নেই।’’

