রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আক্রান্ত এটা বাংলার লজ্জা! মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব বেড়ে গেল হামলাকারীদের শাস্তি দিতে হবে! রাজ ধর্ম রক্ষা করতে পারবেন?
বুলবুল চৌধুরী : রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার কলকাতা থেকে এইমাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে বীজপুরে গিয়ে আক্রান্ত হলেন। কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর এর স্বামী পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে এই খবর পাওয়ার পর জননেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলেন আর বীজপুরে পৌঁছাতে তার উপরে ঝাপিয়ে পড়ে কিছু দুষ্কৃতি। ডিজিটাল আনন্দবাজারের খবর অনুসারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে লক্ষ্য করে ছোড়া কাদা ছেড়া চটি যা এক কথায় বাংলা সংস্কৃতির লজ্জা বলা যেতে পারে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অপরাধ করতে পারেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দুর্নীতি করতে পারেন যে কথাগুলো বিজেপির নেতাকর্মীরা বলে থাকেন সেটা স্বাভাবিক তার জন্য আইন আছে আদালত আছে বিচার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যদি চুরি করে থাকেন তাহলে সেই চোরের শাস্তি দেওয়ার জন্য পুলিশ আছে আদালত আছে তা না করে কিছু দুষ্কৃতিকে পাঠিয়ে এইভাবে জুতো কাঁদা ছুড়ে বাংলাতে কোন রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমদানি করতে চাইছে বিজেপি। সেটা দয়া করে জানাবেন শমীক ভট্টাচার্য।
আজ বাংলাতে যা হয়েছে, এক কথায় বলা যেতে পারে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এর চেয়ে কলঙ্কজনক ঘটনা এর আগে কোনদিন ঘটেনি। সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কংগ্রেস সরকার চলে যাওয়ার পর এখানে বাংলা কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বাংলা কংগ্রেসের পতন হওয়ার পর আবার কংগ্রেস সরকার হয়েছিল। কংগ্রেসের শেষ মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায় এর বিরুদ্ধে বামপন্থীদের অনেক অভিযোগ ছিল। কিন্তু কোনদিন কোন সময় জ্যোতিবাবুরা সিদ্ধার্থ শংকরায়ের প্রতি বদলা নেননি। এইভাবে অপমান করেননি। আমার মনে আছে সিদ্ধার্থ শংকর রায় পশ্চিমবাংলার বাম শাসন আমলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পাঞ্জাবের চেয়েও খারাপ বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন সেই সময় পাঞ্জাবে অনেক অরাজকতা চলছিল।। তারপরেও কোনো সময় এই রাজ্যের বামপন্থীদের মনে হয়নি সিদ্ধার্থ শংকর রায়কে অপমান করতে হবে।
সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যদি অনেক বামপন্থী নেতা কর্মীদের খুন করেছেন ক্ষমতা হারানোর পর এ নিয়ে তাকে কোন প্রশ্ন করা হয়নি। এ নিয়ে তাকে হেনস্থা করা হয়নি। আমরা দেখেছি বামফ্রন্ট শাসনের পতন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ছিলেন কোনদিন কোন সময় তাকে অপমান করা হয়নি। কোন সময় তাকে আক্রান্ত হতে হয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের বামফ্রন্টের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছেন কোন জায়গায় তিনি আক্রান্ত হয়েছেন এ খবর আমরা পাইনি।
কিন্তু আজ এই রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর যে দলের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। ভরসা ইন ভয় আউট! কিন্তু একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তিন বারের জন্য যিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন যিনি কেন্দ্রের মন্ত্রী ছিলেন যিনি সাত বার এমপি হয়েছেন তিনবার বিধায়ক হয়েছেন সেরকম একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ স্বাধীন ভারতে দাঁড়িয়ে একটি প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্বেও তাকে যেভাবে পুলিশের সামনে দুষ্কৃতীরা হামলা করেছে তা এক কথায় বাংলা সংস্কৃতির লজ্জা এবং বাংলা সংস্কৃতিকে অপমান করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।
আমি কোন কালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভক্ত ছিলাম না। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেরে যাওয়ার পর থেকে তার প্রতি যে বদলার রাজনীতি শুরু হয়েছে। সেটা একজন গণতন্ত্র প্রিয় মানুষ হিসাবে মেনে নেওয়ার আমার পক্ষে কঠিন। তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আজকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার মুখ্যমন্ত্রী সৎ সাহস থাকলে এক্ষুনি যে কজন মমতার প্রতি হামলা করেছেন তাদের প্রত্যেককে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তিনি দেবেন।

