জীবিকার খোঁজখবর 

আত্মশক্তি ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করলে সাফল্য নিজে থেকেই ধরা দেবে : কামাল হোসেন

শেয়ার করুন
  • 27
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কামাল হোসেন পশ্চিমবাংলার প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশিক্ষক হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন। অনেক গরীব পরিবারের ছেলে তাঁর হাত ধরে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতীধর্মবর্ণনির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের উচ্চশিক্ষিত বেকার ছেলেমেয়ের মনে আশার সঞ্চার করেছেন তিনি কলেজ স্ট্রিটে তাঁর কোচিং সেন্টারে গেলে এটা স্পষ্ট হবে অসংখ্য ছেলে মেয়ে কামাল হোসেনের কাছে কোচিং নেওয়ার জন্য প্রতিদিন আসছে চাকরির পরীক্ষায় কামাল স্যারই নাকি তাদেরকে সাফল্যের মন্ত্র দেবেন। এই প্রত্যাশায় হাজার হাজার ছেলেমেয়ে কোচিং নিতে আসছে তাঁর কাছে কমখরচে আপটু ডেট কোচিং তিনি দিয়ে থাকেন বলে চাকরি প্রার্থীরা দাবি করে থাকেন। আমরা অর্থাৎ বাংলার জনরব নিউজ পোর্টালের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্ত কামাল স্যার ব্যস্ত থাকার কারণে তাঁর সঙ্গে দেখা করার সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত কয়েকদিন আগে তাঁর কলেজ স্ট্রিটের কোচিং সেন্টারে বাংলার জনরবের প্রতিষ্ঠাতা সাম্মানিক সম্পাদক সেখ ইবাদুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সময় ধরে কথা হয় সেই কথোপকথনই পাঠকদের জন্য ধারাবহিকভাবে তুলে ধরা হবে কয়েক কিস্তিতে তা প্রকাশ পাবে কামাল স্যারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর বক্তব্যের খুব অংশই আমরা বাদ দিয়েছি মাত্র

প্রশ্ন : আপনার কোচিং সেন্টার সমগ্র রাজ্যে ব্রান্ডে পরিণত হয়েছে এর নেপথ্য রহস্য কী ?

কামাল হোসেন : প্রথমেই বলে নেওয়া ভাল সাফল্যের নেপথ্যে কৃতিদের কৃতিত্বটাই বেশি। আমরা তাদের সহযোগী হিসেবে সাহায্য করি মাত্র । রহস্য-টহস্য বলে কিছু হয় না । আমি নয় , আমরা এই আপ্ত বাক্যে আমার ছাত্র-ছাত্রীদের বিশ্বাস করিয়েছি । সেই সঙ্গে আমরা একটা কথা ছাত্রছাত্রীদের বলতে চেয়েছি যে, সফল হতে গেলে আত্মবিশ্বাস ও আত্মশক্তি অর্জন করতে হবে । আমি এমন একজন ব্যক্তি যে আমার কাছে সবাইকে আসতে হবে, এই বিশ্বাস নিয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে পারলে যে কেউ সফল হতে পারবে । যেমন, পেট্রোল পাম্প এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে গাড়ি আছে এমন ব্যক্তিরা যেতে বাধ্য । পেট্রোল পাম্প কিন্ত গাড়ির মালিকদের কাছে যায় না । গাড়ির মালিকরা পেট্রোল পাম্পে যান । আবার যেমন জল এমন একটি বস্তু যে সব মানুষই জলের কাছে যাবে, কিন্ত মানুষের কাছে জল নাও যেতে পারে । আমরা আমাদের ছাত্রছাত্রীদের কাছে এই উদাহরণটি তুলে ধরে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও আত্মশক্তি জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করি । আর যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা আমাদের এই ধারণাকে আত্মস্থ করতে পারে তারা সব পরীক্ষাতেই সাফল্য পাচ্ছে ।

প্রশ্ন : আপনাদের কোচিং দেওয়ার পদ্ধতিটা কী রকম ?

কামাল হোসেন : আগের মত মুখস্থ করে পড়াশোনা করার যুগ শেষ হয়ে গেছে । এখন অনেক কিছু জানতে হয়, তার জন্য বিভিন্ন সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয় । পড়াশোনার পাশাপাশি অনেক উদাহরণ মনে রাখতে হয় । একই সঙ্গে বিষয়বস্তুগুলি বুঝিয়ে দেওয়া হয় । যেমন, ভাল করে শিশু মনস্তত্ত্ব না জানলে পড়ানোর কৌশল জানা সম্ভব নয় । সেই সঙ্গে আবার আমাদের দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে যতগুলি শিক্ষা কমিশন হয়েছে তার প্রত্যেকটি কমিশনের সুপারিশগুলি মনে রাখতে হবে এবং এই সব কমিশনের সদস্যদের নামও মনে রাখতে হবে। এগুলি তো গেল শিক্ষক কিংবা এসআই-র চাকরির পরীক্ষা জন্য । অন্য চাকরির পরীক্ষাগুলির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন উদাহরণ সহযোগে আমরা অঙ্ক, পরিবেশবিদ্যা, ইতিহাস, ভূগোল, সাধারণ ঞ্জানের প্রশ্ন গুলি মনে রাখার জন্য ছোট ছোট উদাহরণ তুলে ধরে থাকি । যেমন, মাদার ডেয়ারি রিসার্চ সেন্টার কোথায় অবস্থিত এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা ছাত্রছাত্রীদের একটা সূত্র শিখিয়ে থাকি । সেটা হল, দুধ কিসে করে কলকাতা কিংবা শহরতলিতে সরবরাহ করা হয় ? এর উত্তর হবে গাড়ি । গাড়ি-র ইংরেজি প্রতিশব্দ হবে কার । আর আমরা সেখান থেকে উত্তর ঠিক করে দিই মাদার ডেয়ারি রিসার্চ সেন্টার কারনালে অবস্থিত । এই উদাহরণটি ছাত্রছাত্রীদের ,মনে রাখা সুবিধাজনক । এরকমভাবেই আমরা জানা কোন বিষয়কে সামনে রেখে অনেক কঠিন প্রশ্নের সমাধান ছাত্রছাত্রীদের শিখিয়ে থাকি । ( চলবে )

 


শেয়ার করুন
  • 27
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment