দেশ 

উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে নিজেদের গড় ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব , ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষার মুখে মোদী-অমিত ?

শেয়ার করুন
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : দেশের গোবলয় অধ্যুষিত এলাকা এবং সন্নিহিত রাজ্যগুলিতে ২০১৪-এর লোকসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত ফল করেছিল বিজেপি । উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান , গুজরাট ও মহারাষ্ট্র-এই ৫ রাজ্যের লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ২০৭ টি । গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি দল ও শিবসেনা একাই ১৯২ টি আসন দখল করেছিল । উত্তরপ্রদেশের ৮০ টি আসনের মধ্যে ৭৩ টি, মধ্যপ্রদেশে ২৯টি আসনের মধ্যে ২৭টি , রাজস্থানে ২৫ টির মধ্যে ২৫টি , গুজরাটে ২৬টির মধ্যে ২৬টি , মহারাষ্ট্রে ৪৭টির মধ্যে ৪১টি বিজেপি-শিবসেনা জোট পেয়েছিল।

কিন্ত ২০১৪-এর মোদী ম্যাজিক অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে । ইতিমধ্যে গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে অল্প ব্যবধানে বিজেপি ওই রাজ্যে ক্ষমতা দখল করেছে। পতিদার নেতা হার্দিক প্যাটেল যেভাবে এখনও আন্দোলনের গতি বজায় রেখেছে তাতে করে আগামী লোকসভা নির্বাচনে এই প্রবণতা বজায় থাকলে গুজরাটে ১০টি আসন বিজেপি পাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

মধ্যপ্রদেশের অবস্থা বিজেপির আরও করুণ । শিবরাজ চৌহান ১৫ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় থাকার ফলে স্বাভাবিকভাবেই শাসক বিরোধী ক্ষোভ সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চার হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ব্যাপম কেলেংকারিতে ওই রাজ্যে অনেক বিজেপি নেতা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে । সাম্প্রতিককালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলেও স্পষ্ট হয়েছে মধ্যপ্রদেশে বিজেপির পায়ের তলার মাটি অনেকটাই সরে গেছে । সুতরাং এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগেই কমলনাথ, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ও দ্বিগ্বিজয়ের হাত ধরে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস ক্ষমতা দখল করতে পারে বলে আগাম জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে। আর এটা যদি সত্য হয় তাহলে তার চেয়ে বড় দুঃসংবাদ মোদী-অমিত শাহদের কাছে আর কিছুই হতে পারে না। তবে যদি কোন কারণে মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতা দখল করতে না পারে তাহলেও মোদীর আহ্বানে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এই রাজ্যে যে ২৭টি আসন দখল করেছিল তা এবার যে ধরে রাখতে পারবে না তা বলাই বাহুল্য মাত্র । খুব বেশি হলে এবার বিজেপি এই রাজ্যে ১৫টি বেশি আসন পাবে বলে মনে হয় না।

রাজস্থানে গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৫ টির আসনের মধ্যে সবকটি দখল করেছিল । এবার রাজস্থান বিধানসভা যে বিজেপি-র হাত ছাড়া হতে চলেছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই । তাই স্বাভাবিকভাবে এবার ২০১৪-র মত লোকসভা আসন পাওয়া সম্ভব হবে না বিজেপি-র পক্ষে । খুব বেশি হলে ১০ টি আসন পেতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

মহারাষ্ট্রে গত লোকসভা নির্বাচনে ৪৭ টি আসনের মধ্যে ৪১ টি আসন পেয়েছিল বিজেপি-শিবসেনা জোট । কিন্ত বিগত কয়েক বছর ধরে মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি-শিবসেনা জোট । আর জোটের মধ্যে এতটাই দ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে যে শিবসেনা জোট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আওয়াজ তুলছে । এছাড়া সংরক্ষণ ইস্যুতে মহারাষ্ট্রে যে আন্দোলন হয়েছে , সেইসঙ্গে কৃষক আন্দোলনে রাজ্যের জনমত এখন আর এই জোট সরকারের পক্ষে খুব বেশি নেই । আবার শিবসেনা জানিয়েছে তারা ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে একাই লড়াই করবে। ফলে সব দিক থেকে বিবেচনা করলে এটা স্পষ্ট যে আগামী লোকসভা নির্বাচনে মহারাষ্ট্রে বিজেপি জোট আর ৪১ টি আসন পাবে না। যদি শিবসেনা একা লড়াই করে তাহলে কংগ্রেস-এনসিপি জোট যে তার ফায়দা পাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

উত্তরপ্রদেশের মায়াবতী, অখিলেশ, কংগ্রেস জোট করে প্রার্থী দিলে বিজেপি ২০টি আসন পাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে ।

সব মিলিয়ে চূড়ান্ত চাপে রয়েছেন মোদী-অমিত শাহরা। তাই গত সপ্তাহেই দিল্লিতে ওই ৫ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে নরেন্দ্র মোদী , অমিত শাহ , অরুণ জেটলি , রাজনাথ সিং ও নীতিন গড়কড়িরা আত্ম সমীক্ষা করার পাশাপাশি কীভাবে সাফল্য আসবে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিন্ত কোথায় যেন মোদী-অমিত শাহদের কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া হচ্ছে ।

কারণ যে আচ্ছে দিনের স্বপ্ন দেখিয়ে ২০১৪-তে বাজিমাৎ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী, সেই আচ্ছে দিন তো দূরঅস্ত, মোদী আমলে যে দুরাবস্থা সাধারণ মানুষের হয়েছে তা বিগত ৭২ বছরে হয়নি বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন।

ফলে ২০১৯-এ ওই পাঁচ রাজ্য থেকে গত লোকসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ধরে রাখতে তো পারবেই না ,যদি গতবারে পাওয়া ১৯২-টির মধ্যে ১০০টি আসন ধরে রাখতে পারে তবে সেটাও বিজেপির পক্ষে মঙ্গলজনক হতে পারে । কোন কারণে ১০০-র নিচে চলে গেলে মোদীর ২০১৯-এ দিল্লি দখলের স্বপ্ন পূরণ হওয়া কঠিন হয়ে যাবে ।

 

 


শেয়ার করুন
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment