দেশ 

‘রাহুল গান্ধী মিথ্যা ভাষণের রোগে আক্রান্ত’ অভিযোগ বিজেপির! রহস্য?

শেয়ার করুন

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী ‘মিথ্যাভাষণের রোগে আক্রান্ত’ বলে অভিযোগ তুলল বিজেপি। পদ্মশিবিরের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে শুক্রবার রাতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের বৈঠক নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন রাহুল!

বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী শনিবার বলেন, ‘‘রাহুল গাঁধী নিজের মনগড়া রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার উদ্দেশ্যে সত্যকে বিকৃত করেছেন। এর আগেও তিনি সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির বক্তব্য নিজের সুবিধামতো ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এ বার তিনি দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রপতিকেও নিজের রাজনীতির হাতিয়ার করতে সক্রিয় হয়েছেন।’’

‘বেআইনি এবং স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপে অভিযুক্ত’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। শুক্রবার রাত ৮টায় সময় দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। ‘ইন্ডিয়া’র প্রতিনিধিদলে রাহুল ছাড়াও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বাড্রা, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, সিপিআই সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লা, আরজেডির তেজস্বী যাদব ও মনোজ ঝা, এনসিপি (শরদ পওয়ার)-র সুপ্রিয়া সুলে, দলিত সংগঠন ভিসিকের থোল তিরুমালব্যন এবং সমাজবাদী পার্টির রাজীব রায় ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঘণ্টাখানেকের সাক্ষাৎপর্ব সেরে বাইরে বেরিয়ে রাহুল-মমতারা দাবি করেছিলেন, ভোটচুরির অভিযোগ উড়িয়ে দেননি রাষ্ট্রপতি। বরং মন দিয়ে তাঁদের কথা শুনেছেন। শুধু তা-ই নয়, অভিযোগের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণও চেয়ে পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। রাহুল বলেন, ‘‘আমরা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমার ভারতের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করেছেন।’’ কংগ্রেস নেতার দাবি, রাষ্ট্রপতি তাঁদের বক্তব্য কখনওই অস্বীকার বা খণ্ডন করেননি। রাহুলের কথায়, ‘‘আমরা যা বলেছি সব শুনেছেন রাষ্ট্রপতি। আমাদের বক্তব্যে পাল্টা কোনও যুক্তি দেননি। ভোটচুরির প্রমাণ আমাদের জমা করতে হবে। আমরা সোমবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করব। তাঁকেও স্মারকলিপি দেব।’’

রাহুল সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে লেখেন, ‘‘ভোটচুরির অভিযোগ রাষ্ট্রপতি খণ্ডন করেননি, এতে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম।’’ বিজেপি মুখপাত্র সুধাংশুর মন্তব্য, ‘‘রাহুল মিথ্যাচার করছেন। সব সীমা লঙ্ঘন করে গিয়েছেন। গত কয়েক দিন ধরে তাঁর নেতৃত্বে বিরোধীরা ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন এবং ভিত্তিহীন বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন! রাষ্ট্রপতি বিরোধীদের দাবি মেনে নিয়েছেন, এমন উদ্ভট দাবিও তোলা হচ্ছে!’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ