প্রচ্ছদ 

স্বরূপ বিশ্বাস শ্লীলতাহানি তো দূরঅস্ত দুজনের সামনাসামনি দেখাও কোনো দিন হয়নি’, হঠাৎ বয়ান বদল মেকআপ আর্টিস্টের

শেয়ার করুন

স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে শ্লীলতাহানির মামলায় এবার বড়সড় মোড়। অভিযোগকারী মেকআপ আর্টিস্ট সিমরন পালই এবার দাবি করলেন, তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাস কোনওদিন তাঁর শ্লীলতাহানি করেননি। এমনকি দু’জনের কোনওদিন সামনাসামনি দেখাও হয়নি বলে দাবি তাঁর। শুক্রবার গভীর রাতে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে নিজের বক্তব্য জানান সিমরন। পাশাপাশি জানান, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে করা মামলাটিও তিনি তুলে নিয়েছেন।

২০২৬ সালের জুন মাসে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইনে অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। সেই মামলায় সিমরনের অভিযোগকে ঘিরেও যথেষ্ট চর্চা হয়েছিল। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করলেন অভিযোগকারী নিজেই।

ভিডিয়ো বার্তায় সিমরন বলেন, কিছু মানুষের কথায় বিশ্বাস করেই তিনি স্বরূপের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর দাবি, “কিছু মানুষ মিথ্যে অভিযোগ করতে বলেছিল আমাকে। আমি ওদের কথা শুনে এসব বলেছিলাম। আমি কিন্তু কখনও বলিনি স্বরূপ বিশ্বাস আমাকে শ্লীলতাহানি করেছেন।”

সিমরনের বক্তব্য, স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর কোনও পরিচয়ই নেই। তিনি বলেন, “না আমি ওনাকে চিনি, না উনি আমাকে চেনেন।” তাঁর দাবি, নিউ আলিপুর থানায় যে বয়ান তিনি দিয়েছিলেন, সেখানে মূলত শান্তনু দে এবং বাপি মালাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা ছিল। তাঁর অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরাই তাঁকে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন এবং গুলি করার ভয় দেখিয়েছিলেন।

তাহলে স্বরূপ বিশ্বাস কীভাবে এই মামলায় জড়িয়ে পড়লেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিমরন নিজেই। তাঁর কথায়, “আমার মূল ব্যাপারটা স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে নয়, বরং শান্তনু দে আর বাপি মালাকারকে নিয়ে।” স্বরূপের গ্রেফতারের পর বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর খারাপ লেগেছিল বলেও জানান তিনি।

এর পরেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সিমরন বলেন, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে করা মামলা তিনি তুলে নিয়েছেন। ভিডিয়োর সঙ্গে দেওয়া পোস্টেও একই কথা লিখেছেন তিনি। সেখানে তাঁর দাবি, কয়েকজনের প্ররোচনা এবং ভুল বোঝানোর কারণেই তিনি প্রথমে অভিযোগ করেছিলেন। পরে বিষয়টি বুঝতে পারলেও ভয় এবং পরিস্থিতির কারণে সঙ্গে সঙ্গে মামলা প্রত্যাহার করতে পারেননি।

অবশেষে সাহস করে মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান সিমরন। স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমার জন্য স্বরূপ বিশ্বাস অকারণে জেল খেটেছেন। কিছু না করেই এত বড় একটা বদনাম ওনার হয়েছে। তার জন্য স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। পারলে ছোট বোন মনে করে আমাকে মাফ করে দেবেন।”

তবে কারা তাঁকে দিয়ে এই অভিযোগ করিয়েছিলেন, তাঁদের নাম প্রকাশ্যে আনতে চাননি সিমরন। তাঁর বক্তব্য, তিনি আর কোনও ঝামেলা বা অশান্তিতে জড়াতে চান না। এখন শুধু নিজের কাজেই মন দিতে চান।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ