দেশ 

ধর্মেন্দ্রর বিদায় তো হল! এবার নিশানায় কারা?

শেয়ার করুন

বুলবুল চৌধুরী : দেশ জুড়ে ছাত্র যুব সমাজের আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। তাঁর এই পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এবার কারা? কারণ বিগত ১২ বছরে সেভাবে মোদি সরকারের কোন মন্ত্রী পদত্যাগ করেননি! শুধুমাত্র এম জে আকবর পদত্যাগ করেছিলেন তার বিরুদ্ধে একটি মহিলা যৌন হেনস্তার অভিযোগ করেছিলেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। মন্ত্রিত্ব চালাতে গিয়ে কোথাও অকর্মণ্যতার পরিচয় দিয়েছেন কিংবা যোগ্যতার পরিচয় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন কিংবা ওই দফতরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তার পরেও কোন মন্ত্রী পদত্যাগ করেননি। রাজনাথ সিং ২০১৫ সালের ২৪ জুন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন এটা ইউ পি এ সরকার নয় এটা বিজেপি সরকার বা মোদিজীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকার এখানে কোন কাউকে পদত্যাগ করতে হয় না।

রাজনাথ সিং এর সেই বলা কথাটি সেই অহংকারী কথাটি সময়ের বিচারে ১১ বছর পর ২৬ শে জুলাই ২০২৬, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হলো। অর্থাৎ বিজেপির মন্ত্রীরা এতদিন ধরে যে দাবি করছিলেন তারা যাই করুক তাদেরকে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে হবে না। মানুষের চাপে দেশের যুবসমাজের চাপে দেশ জুড়ে আন্দোলনের জেরে কার্যত পিছু হটতে বাধ্য হলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেন। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধান যে কারণে পদত্যাগ করেছেন সেই একই কারণে একাধিক মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, দিল্লিতে যে ছাত্র যুব সম্প্রদায়ের উপরে অমানষিক অত্যাচার করেছে দিল্লী পুলিশ। তার জেরে শুধুমাত্র তার জন্যই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। রাজনৈতিক মহল মনে করছে পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল মিশিয়ে যেভাবে গাড়িগুলোকে দুর্বল করা হচ্ছে গাড়ির ইঞ্জিনগুলোকে বিনষ্ট করা হচ্ছে এই দুর্নীতির জন্য সড়ক মন্ত্রী নীতিন গডগড়ির পদত্যাগ জরুরী। বিদেশ দফতরের ব্যর্থতার জন্য বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর এর পদত্যাগ করা উচিত। দেশের বিদেশ নীতি দেশের কূটনীতি এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গেছে যে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি যা বলছেন তাতে আমাদের দেশের গৌরব ঐতিহ্য ভুলুন্ঠিত হয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে ট্রেড ডিল সমাপ্ত করতে না পারার কারণে দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও পদত্যাগ জরুরি। দেশের আর্থিক অবস্থা শেষ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার জন্য দেশের অর্থমন্ত্রীর নির্মলা সীতারামনের পদত্যাগ জরুরি।

আসলে এসবের পেছনে বড় ইতিহাস রয়েছে। নরেন্দ্র মোদির আমলে কোন মন্ত্রীর কোন ক্ষমতা নেই। আমাদের রাজ্যে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে কোন মন্ত্রীর কোন ক্ষমতা ছিল না সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল মমতার হাতে একই রকম ভাবে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর আমলে সব কিছু কেন্দ্রীভূত রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের হাতে। নির্দিষ্ট দফতরের ডেপুটি সেক্রেটারি পর্যায়ের বা যুগ্ম আধিকারিক ফাইল তৈরি করেন সেই ফাইল পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরে বসে থাকা নির্দিষ্ট অফিসার সেই ফাইল দেখেন এবং তাতে তিনি স্বাক্ষর করলে বা অনুমতি দিলে তবে মন্ত্রী সবুজ সংকেত দেবেন।

সুতরাং পাঠকবর্গ আপনারা ভেবে বলুন আমি যে যে মন্ত্রীদের ব্যর্থতার কথা বললাম তাদের এই ব্যর্থতার পেছনে কারণটা কি? আমি কিছুই বলবো না আপনারা বলুন কেন্দ্র সরকারের ব্যর্থতার কারণে বা বিভিন্ন দফতরের ব্যর্থতার পেছনে আসল রহস্য?


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ