বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

ত্রিনেত্রার বৈঠকে নেলসন ম্যান্ডেলা, ডি এল রায় স্মরণ 

শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, বাংলার জনরব: গত ১৮ জুলাই ২০২৬ শনিবার সাহিত্য পত্রিকা ‘ত্রিনেত্রা’র মাসিক বৈঠকে গান, কবিতা ও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় বর্ণবিদ্বেষের প্রতিবাদী ব্যক্তিত্ব নেলসন ম্যান্ডেলা এবং বাংলা দেশাত্মবোধক সংগীতের অন্যতম প্রণেতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের প্রতি । গড়িয়া দেশ গৌরব পাঠাগারে আয়োজিত ত্রিনেত্রা পত্রিকার মাসিক বৈঠকে কিংবদন্তি ব্যক্তিদ্বয়ের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উদ্যোক্তারা অনুষ্ঠানের সুর বেঁধে দিলেও উপস্থিত কবি, শিল্পী, সাহিত্যিকগণ তাঁদের নিজ নিজ পরিবেশনে সমগ্র অনুষ্ঠাটিনকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলেন। এদিন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কথাশিল্পী সেখ আব্দুল মান্নান। তাঁর সভাপতিত্বে বৈঠকে বিভিন্ন ভাবে অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ডা. সিরাজুল ইসলাম ঢালী, শিবশঙ্কর বক্সী, সমর শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, তপন রায় চৌধুরী,দান সাগর মাইতি, মধুমিতা ভট্টাচার্য, প্রশান্ত কুমার মৈত্র, বিধানচন্দ্র খাঁ,বিশিষ্ট কবি সুভাষচন্দ্র ঘোষ, আলমগীর রাহমান, সমীর চন্দ্র ব্যানার্জী প্রমুখ।

বৈঠকের শুভ সূচনায় ত্রিনেত্রা পত্রিকার সভাপতি তথা উক্ত পাঠাগারের গ্রন্থাগারিক মধুমিতা ভট্টাচার্য পরিবেশন করেন ‘বেলা বয়ে যায়, ছোট্ট মোদের পানসি তরি সঙ্গে কে কে যাবি আয়’ জনপ্রিয় দ্বিজেন্দ্র সংগীত ।

পত্রিকা সম্পাদক কবি বিকাশ চন্দ্র সরকারের স্বাগত ভাষণ এবং পত্রিকার সহ সম্পাদক প্রিয়াংশু বিশ্বাসের দক্ষ সঞ্চালনায় উল্লিখিত বিষয়ে ভাবগম্ভীর আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাহিত্যিক সমর শংকর চট্টোপাধ্যায়। তিনি মূলতঃ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ওপর তথ্য সম্বলিত বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বাংলা সাহিত্যের পঞ্চ কবিদের নিয়েও আলোকপাত করেন। বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক দান সাগর মাইতি। বক্তা বিধান চন্দ্র খাঁ

নেলসন ম্যান্ডেলা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যেখানে বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে দীর্ঘ কারাবাস করেছেন নেলসন ম্যান্ডেলা সেখানে দেশের দিকে দিকে গজিয়ে ওঠা ধর্মবিদ্বেষের‌ গ্লানি সমাজের জন্য হানিকর।

এদিন মাসিক বৈঠকে প্রথম অংশ নিয়ে কবি আলমগীর রাহমান বৈঠকের উদ্যোক্তাদের এহেন উদ্যোগের প্রশংসা করেন , সঙ্গে ‘এ প্রজন্মের সিলেবাসে নেই ‘ তাঁর কাব্যগ্রন্থ থেকে পাঠ করে শোনান দুটি বিবেক তাড়িত মূল্যবান কবিতা। গল্পকার প্রশান্ত কুমার মৈত্র পাঠ করে শোনান স্বরচিত ‘রান্না কান্না ‘ শ্লেষাত্মক গল্প। নারী ধর্ষণ, নারীর নিরাপত্তা হীনতা কে সামনে রেখে একটি স্বরচিত দীর্ঘ প্রতিবাদী কবিতা ‘মেয়েটি এখন রাস্তায় যেতে চায় না’ পাঠ করে শোনান। শিব শংকর বক্সী পাঠ করেন স্বরচিত কবিতা ‘মনের কথা ‘। কবি সমীর চন্দ্র ব্যানার্জী পাঠ করেন কবিতা ‘শেষ সংলাপ ‘। কবি সুভাষচন্দ্র ঘোষ পাঠ করেন তাঁর চতুর্দশপদী কবিতা ‘শকুনি’। স্বরচিত ‘ বাংলা ভাষা’ কবিতা পাঠ করেন কবি শম্পা বৈদ্য দে।

এদিন বৈঠকে পঠিত গল্পকার সিরাজুল ইসলাম ঢালীর ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট ‘ এবং ‘ভাষাহীনার বিয়ে’ ছোট্গল্প দুটি অন্য মাত্রা এনে দেয় । ডিজিটাল অ্যারেস্ট গল্পটি পাঠ করেন ডা. সিরাজুল ইসলাম ঢালী নিজে এবং ‘ভাষাহীনার বিয়ে’ পাঠ করে শোনান মধুমিতা ভট্টাচার্য। মধুমিতা আবৃত্তি করেন কবি বিকাশ চন্দ্র সরকারের অনবদ্য কবিতা ‘বানভাসী’। শিশু শিল্পী আদৃকা দে আবৃত্তি করে শোনায় সুকুমার রায়ের ‘গোঁফ চুরি’ কবিতা টি । বৈঠকে পরিবেশিত শিল্পী মহুয়া দে’র দ্বিজেন্দ্র গীতি ‘আমরা মলয় বাতাসে ভেসে যাব শুধু কুসুমের‌ মধু করিব পান’ এবং শিল্পী সৃজনী দে’র ‘আজ শ্রাবণে পূর্ণিমাতে…’ রবীন্দ্র সংগীতটি উপস্থিত কবি সাহিত্যিকদের মুগ্ধ করে দেয়। সঞ্চালনার পাশাপাশি প্রিয়াংশু বিশ্বাস পাঠ করেন একটি শ্লেষাত্মক ছোটগল্প ‘ঘড়ি’।

সভাপতির ভাষণে সমগ্র অনুষ্ঠান সম্পর্কে আলোকপাত সহ ‘প্রাচুর্যে হারিয়ে যাচ্ছে রথের নির্মল আনন্দ ‘ শীর্ষক প্রাসঙ্গিক নিবন্ধ পাঠ করে শোনান বৈঠকের সভাপতি তথা বিশিষ্ট সাহিত্যিক সেখ আব্দুল মান্নান।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ