আন্তর্জাতিক 

পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা! গভীর সংকটে তারেক সরকার

শেয়ার করুন

বাংলাদেশে অব্যাহত পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ। সোমবারও সকাল থেকে ঢাকা, গাজীপুরের বেশ কিছু জায়গায় পথ অবরোধ হয়েছে। বিক্ষোভ হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। ভাঙচুর হয়েছে গাড়িও। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গাজীপুরের প্রায় ১৫০ পোশাক কারখানা সোমবারের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

সোমবার সকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন পোশাকশ্রমিকেরা। ঢাকা-টাঙ্গাইল সংযোগকারী রাস্তাও অবরোধ করা হয় সফিপুর পল্লী এলাকায়। পুলিশ এবং আধাসেনা বাহিনী (বিজিবি) বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে একপ্রস্ত সংঘর্ষ হয় সেখানে। ইটের আঘাতে জখম হন বিজিবির এক সদস্য। গাজীপুরেও এ দিন দুপুরে একাধিক গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পুলিশের একটি গাড়িতে তাণ্ডবের পর সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, শ্রমিক বিক্ষোভ সোমবারও চলছে। আন্দোলনের কারণে প্রায় ১৫০ কারখানায় সোমবারের মতো ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার কথাও নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার। দ্য ডেলি স্টারকে তিনি জানান, দুপুরে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে শ্রমিকেরা আগুন ধরিয়ে দেন। পরে সফিপুরে আরও একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে জানান পুলিশ সুপার।

ঢাকার সাভারে আশুলিয়াতেও সোমবার সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের হটাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। উত্তেজনার মাঝে বিক্ষোভকারীরাও একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। মিরপুরেও এ দিন বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে বিচ্ছিন্ন ভাবে রাস্তায় নামার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদেরও ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ।

বাংলাদেশে শ্রমিক বিক্ষোভের নেপথ্য আওয়ামী লীগের যোগ থাকার তত্ত্ব রবিবারই তুলে ধরেছিল তারেক রহমানের সরকার। সোমবার সে বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল তারা। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের দাবি, যে সব পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত, অস্থিরতার নেপথ্যে তাঁরাই রয়েছেন। একই দাবি তারেকের উপদেষ্টা মাহদী আমিনেরও। এ সবের নেপথ্যে ‘নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের’ যোগসূত্র দেখছেন তিনি।

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা (ভারতীয় মুদ্রায় ২৩ হাজার টাকা) করার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভ শুরু করেছেন বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকেরা। রবিবার সকালেও প্রতিবাদে নামেন আন্দোলনকারীরা। মিরপুর এবং গাজীপুরের কিছু এলাকায় বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় রাস্তার উপরে। কোথাও পোড়ানো হয় পুলিশের গাড়ি, কোথাও অগ্নিসংযোগ হয় পিকআপ ভ্যানে। রবিবারের ওই অশান্তির ঘটনায় রাতেই ঢাকা এবং গাজীপুরে ধরপাকড় শুরু হয়।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ