জেলা বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

মরিচঝাঁপি নাট্য উৎসব

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিনিধি :সুন্দরবনে গোলপাতা অফ মরিচঝাঁপি নাটক দলের আয়োজনে ৭ম মরিচঝাঁপি নাট্য উৎসব মোট চার দিন হয়ে গেলো, ২৮-৩১শে অক্টোবর।

সুন্দরবন অঞ্চলে এধরণের নাটকের উৎসবে এলাকায় বিপুল আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। ২৮ শে অক্টোবর কুমিরমারীতে তাদের “গোলপাতা ভাবের ভুবন” আঙিনাতে শুভ সূচনা হয় এই নাট্য উৎসবের।

আঙিনাটি ছিল গাছ-গাছালিতে ঘেরা নির্জন পরিবেশ। মঞ্চ তৈরি হয় বড় সবেদা গাছের তলায় মাটিতেই ছিল, শুধুমাত্র চার কোনায় চারটি বাঁশ বেঁধে তা নির্মাণ করা হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যেই এত সুন্দর আয়োজন স্থানীয় সবাইকে আলাদা স্বাদ দিয়েছে। কারণ সুন্দরবনে বর্তমানে সবাই মঞ্চ বেঁধে ঝিকঝাক লাইট দিয়ে ড্যান্স হাঙ্গামা দেখতে দেখতে মানুষ বিরক্ত হয়ে পড়েছে। তাই এমন মুক্ত নির্জন পরিবেশে নাট্য উৎসব দেখে সবার ভালো লেগেছে বলে অনেক দর্শক জানিয়েছেন।

প্রথম দিন সূচনা হয় অংকন প্রতিযোগিতা দিয়ে। চারটি গ্রুপে ৪৮ জন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। তারপর স্থানীয় শিল্পীদের দ্বারা মাটির গানের আখড়া বসে। প্রথম বনবিবি পালার গান শোনান বর্ষীয়ান শিল্পী ছিদাম মন্ডল, এছাড়া ভাটিয়ালি গান শোনান সঞ্জিত মন্ডল, বঙ্কেশ যোদ্দার, দীপক মন্ডল এবং ঢোল বাজিয়ে সঙ্গত করেন শান্তনু শীল। এরপর প্রথম নাটক মঞ্চায়ন ‘হাতি বন্ধু’, নাটক ড. ওম প্রকাশ ভারতী, প্রযোজনা বোলপুর নৃত্য নিকেতন ড্যান্স ট্রুপ এন্ড স্কুল। দ্বিতীয় নাটক গোলপাতা অফ মরিচঝাঁপি নাট্য দলের ছোটোদের প্রযোজিত নাটক ‘ভাঙা গড়ার খেলা’ সুন্দরবন প্রাকৃতিক ঘটনা বিষয়ক নাটক। নাটকটি নির্মাণের জন্য বোলপুর থেকে তিন বার সুন্দরবন এসে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন অভিষেক দত্ত।

তৃতীয় নাটকটি ছিল পুতুল নাটক ‘কাবুলিওয়ালা, নাটক ও নির্দেশনা গোবিন্দ মন্ডল, প্রযোজনা সুন্দরবন পাপেট থিয়েটার। দ্বিতীয় দিন ২৯ শে অক্টোবর মাটির টানে মাটির গানের আখড়া দিয়ে শুরু করেন সুন্দরবন অঞ্চলের শিল্পী শ্যামল গায়েন। এদিনের প্রথম নাটক ছিল নাটক ‘হাম টিমটিম’ প্রযোজনা বোলপুর নৃত্য নিকেতন ড্যান্স ট্রুপ এন্ড স্কুল, নাটক ও নির্দেশনা অভিষেক দত্ত।

ছোটোদের প্রযোজনা নাটকটি মূলত শারীরিক আঙ্গিক ভিত্তিক। দ্বিতীয় নাটক ‘ডিম খোলার পাহাড়’ নাটক প্রবীর গুহ নির্দেশনায় সঞ্চয়িতা বসু, প্রযোজনায় মধ্যমগ্রাম নৃত্য বিতান। তৃতীয় নাটক ‘মুসকিল আসান’ নাটক ও নির্দেশনা সুশান্ত হালদার, প্রযোজনা কৃষ্ণনগর সিঞ্চন। অসাম্প্রদায়িক ভাবে মিলেমিশে বসবাসকে ভেঙে দাঙ্গা শুরু করে সুবিধাবাদি ধর্মীয় শাস্ত্রকাররা এমন গল্প শোনায় এই নাটকটিতে।

৩০ শে অক্টোবর কুমিরমারীর পাশের দ্বীপ ছোটমোল্লাখালীর কালিদাসপুর গ্রামে তৃতীয় দিনের নাটকের আসর বসে কৃষ্ণনগর সিঞ্চনের নাটক ‘মুসকিল আসান’ দিয়ে; দ্বিতীয় নাটক মধ্যমগ্রাম নৃত্য বিতানের নাটক ‘ডিম খোলার পাহাড়’। অসাধারণ প্রযোজনা লাইভ আবহ, ৩ জনের অভিনীত নাটক। নাটকটির বিষয় হল সাধারণত খেটে খাওয়া মানুষ ধন্যতান্ত্রিক মানুষের থেকে বকশিস পাওয়ার আশায় কিভাবে তার প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা জীবিকাকে ভুলে যায়, আবদ্ধ হয়ে পড়ে সেই সব মানুষের কাছে যারা শুধু খাটিয়ে নেয়।

 

তৃতীয় নাটক উৎসব আয়োজক সংস্থা গোলপাতা অফ মরিচঝাঁপি প্রযোজনায় ‘জেলে পাড়ার গান’ অভিনয়ে স্নেহাশিস পুরকাইত, অমিত ঘরামী, সুরজিৎ মন্ডল, সীতাংশু মন্ডল ও ভাস্কর সরদার। চতুর্থ নাটক বোলপুর নৃত্য নিকেতন ড্যান্স ট্রুপ এন্ড স্কুল প্রযোজিত ‘হাম টিমটিম’। ৩১ শে অক্টোবর ছিল নাট্য উৎসবের চতুর্থ অর্থাৎ শেষ দিন। প্রথম নাটক ঊহিনী কোলকাতা প্রযোজিত ‘ঢঙ’। নাট্যায়ণ ও নির্দেশনা সেঁজুতি বাগচী। দ্বিতীয় নাটক সুকুমার রায়ের গল্প অবলম্বনে ‘পাজি পিটার’ প্রযোজনা গোলপাতা অফ মরিচঝাঁপি, ছোটোদের অসাধারণ প্রযোজনা। নাটকটি নির্মাণে দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ঊহিনী কোলকাতা। নির্দেশনায় অদ্রিজা দাসগুপ্ত এবং সহযোগিতায় মনীশ ঘোষ। তৃতীয় অর্থাৎ উৎসবের শেষ নাটক ‘জোলা ও সাত ভূতের গল্প। নাট্যরুপ ও নির্দেশনায় অভিজিৎ সরকার । প্রযোজন ঊহিনী কোলকাতা।

নাট্য উৎসব আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে সীতাংশু মন্ডল জানান নাট্য উৎসবটি পশ্চিমবঙ্গ তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর, পশিমবঙ্গ নাট্য একাডেমির আর্থিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, এই উৎসবটি আয়োজন করার জন্য সহযোগিতা করেছেন কুমিরমারী সমাজ কল্যান সংঘ ও দুই অঞ্চলের স্থানীয় মানুষজন এবং বিশেষ ভাবে কালিদাসপুর ভীমচন্দ্র হাই স্কুল ।

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ