শেষ মুহূর্তে স্থগিত জ্ঞানেশের অপসারণে ‘নকল সংসদ’!
আইনি জটিলতা ও সংসদ অবমাননা সংক্রান্ত বিতর্ক এড়াতে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট ‘ইন্ডিয়া’র ‘মক পার্লামেন্ট’ (নকল সংসদ) কর্মসূচির নাম এবং পদ্ধতিতে বদল আনা হয়েছিল বৃহস্পতিবার। এ বার বদলানো হল নির্ঘণ্ট। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টেয় কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গের ১০ রাজাজি মার্গের সরকারি বাংলোয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ‘প্রতীকী ইমপিচমেন্ট’-এর কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বদল করা হয়েছে।
কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, দিল্লিতে বৃষ্টি এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণেই খড়্গের বাংলোর খোলা লনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি ২৪ ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের পরিবর্তে শনিবার হবে ওই কর্মসূচি। প্রসঙ্গত, আগেই ওই কর্মসূচির নাম বদলে ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’ (জন মহাভিযোগ) রাখা হয়েছে ‘ইন্ডিয়া’র তরফে। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ওই কর্মসূচিতে লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার স্পিকারের ভূমিকা পালন করলেও, আর কেউ কোনও পদাধিকারীর ভূমিকা পালন করবেন না।
বিরোধীদের কর্মসূচিতে কোনও ‘ট্রেজ়ারি বেঞ্চ’ বা সরকার পক্ষের প্রতীকী উপস্থিতিও থাকছে না। বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে যাতে সংসদ অমর্যাদার অভিযোগ না ওঠে, সেই কারণেই এই বদল আনা হয়েছে বলে কংগ্রেসের একটি সূত্র জানাচ্ছে। তবে মীরা ওই কর্মসূচির পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত মেনেই ‘ভোটচুরি’ এবং এসআইআর অনিয়মে অভিযুক্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাঠ করবেন। বাকি সময়, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা জ্ঞানেশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বক্তৃতা করবেন। জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারেন খড়্গে। ‘ইন্ডিয়া’ সূত্রের খবর, খড়্গের ১০ রাজাজি মার্গের সরকারি বাংলোয় আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে সাংসদ সংখ্যার নিরিখে সহযোগী দলগুলিকে বক্তৃতার সময় বরাদ্দ করা হবে। কংগ্রেসের পর সবচেয়ে বেশি সময় বরাদ্দ করা হয়েছে সমাজবাদী পার্টির জন্য। এর পর সুযোগ পাবে মমতা তৃণমূল। মমতা তৃণমূলের তরফে ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, কীর্তি আজাদ, মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ। বিরোধী জোটের এই ‘জ্ঞানেশ-অপসারণ’ কর্মসূচির শেষ বক্তা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী।

