Gen Z আন্দোলনে উত্তাল অরুণাচল প্রদেশ, থানায় অগ্নিসংযোগ বিজেপি বিধায়কের বাড়িতে লুটপাট বিজেপির সভাপতির বাড়িতে হামলা!
বহুমুখী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে অরুণাচল প্রদেশে বিক্ষোভে ফেটে পড়ল সাধারণ মানুষ। এই বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত হিংসাত্মক রূপ নেয় ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ পাশাপাশি বিজেপি বিধায়কের বাড়িতেও লুট করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
১১২০০ মেগা ওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে পরিস্থিতি উতপ্ত হয়ে ওঠে শুক্রবার বিকেল থেকে। স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষ করে ‘Gen Z’-রা রাস্তায় নামেন। জাতীয় জলবিদ্যুৎ শক্তি কর্পোরেশন লিমিটেডের দফতরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় একটি থানাতেও। (Siang Upper Multipurpose Project)।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল পর্যন্ত অশান্তি চলে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁট-পাথর ছোড়া হয়। আহত হয়েছেন প্রায় ৪০ জন পুলিশকর্মী। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ, তা ছিটগে গিয়ে এক বিক্ষোভকারীর পায়ে লাগে। আহত হয়েছেন তিনিও।
ইস্ট সিয়াংয়ের পাসিঘাটে বিক্ষোভ হিংসাত্মক আকার ধারণ করে। পাসিঘাটের NPP বিধায়ক ওনি পানিয়াং এবং পাসিঘাট ওয়েস্টের বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিনোং এরিংয়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর, লুঠতরাজ চালানো হয়। বিজেপি-র রাজ্যসভাপতি কালিং মোয়োংয়ের বাড়িতেও হামলা হয় বলে জানিয়েছেন অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু।
পেমা খান্ডু জানিয়েছেন, সরকার আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। কিন্তু হিংসা বরদাল্ত কার হবে না। তাঁর দাবি, তিব্বতে চিন যে ৬০০০০ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ছে, তার মোকাবিলাতেই অরুণাচলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ার সিদ্ধান্ত।
কিন্তু বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁরা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধী নন, বরং যে আকারের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়া হচ্ছে, তার বিরোধিতা করছেন। সরকার ছোট আকারের জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গড়তেই পারে। কিন্তু অরুণাচলে যে বৃহদাকার জলবিদ্য়ুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে, তাতে রাজ্য়ের ভৌগলিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বহু মানুষ ঘরছাড়া হতে হবেন, নেমে আসতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয়ও।
পুলিশ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতায় শুক্রবার ১২ ঘণ্টার বনধ ডেকেছিল Adi Baane Kebang United এবং অন্য় সংগঠনগুলি। শান্তিপূর্ণ সেই বনধ শেষ হয়ে যায় বিকেল ৫টা নাগাদই। কিন্তু তার কিছু ক্ষণ আগে থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা নিজেদের ‘Gen Z’ বলে দাবি করেন। পাসিগাট-বোলেং হাইওয়ে অবরোধ করা হয়।
পুলিশের দাবি, এর পর অন্ধকার যত গাঢ় হতে থাকে, ততই হিংসাত্মক হতে শুরু করে বিক্ষোভ। যদিও বিক্ষোভকারীদের দাবি, বনধ চলাকালীন পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে যাতে আহত হন মহিলারা। জলবিদ্য়ুৎ প্রকল্পের বিরোধিতা করায় যে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে, তাঁদের মুক্তি এবং এলাকা থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে Adi Baane Kebang United. এই মুহূর্তে পাসিঘাট, মেবো এবং রাসকিনে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ সেখানে।
অরুণাচলে সিয়াং নদীর উপর প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি তৈরি হলে, সেটি ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হয়ে উঠবে। কিন্তু স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দাবি, ওই প্রকল্পের ফলে ভিটেমাটি, জমি হারাবেন বহু মানুষ। প্রকৃতির ভারসাম্যও নষ্ট হবে বলে দাবি তাঁদের।

