জামিন পেলেন কংগ্রেস নেতা অতনু দাস! ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ছবি পুড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশে গ্রেফতার হয়েছিলেন!
বাংলার জনরব ডেস্ক: বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানোর অপরাধে কংগ্রেস নেতা অতনু দাসকে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। মূলত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভা তে দাঁড়িয়ে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি যারা পুড়িয়েছেন তারা অপরাধ করেছেন তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। কলকাতা পুলিশ কমিশনার এই নির্দেশ পাওয়ার পরেই কংগ্রেস নেতা অতনু দাসকে গ্রেফতার করে। এই ছোট মামলায় গ্রেফতার করার পরও তিনি জামিন পাননি বিনিময়ে চার দিনের পুলিশ হেফাজত পেয়েছিলেন।
আজ ১৪ ই সেপ্টেম্বর পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আলিপুর আদালতে হাজির করা হলে শেষ পর্যন্ত এই কংগ্রেস নেতাকে জামিন দেওয়া হয়।
মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রের লিলুয়ার কর্মসূচি ঘিরে সম্প্রতি বিতর্ক দানা বাঁধে। পুজোয় আমিষ খাওয়ার সমালোচনা করার সময়ে বাঙালিকে ‘পাখণ্ডী’ (ভণ্ড) আখ্যাও দিয়েছিলেন তিনি (পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে যাওয়ার পরে নিজ মন্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন)। ওই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক ছড়ায় গোটা রাজ্যে। ধীরেন্দ্রের মন্তব্যের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার ভবানীপুর থানার সামনে তাঁর ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের একাংশ।
ধীরেন্দ্রের ছবি পোড়ানোর ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি কতগুলো লোককে দেখলাম ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পুড়িয়েছে। এখান থেকে সিপি-কে (কলকাতার পুলিশ কমিশনার) বলছি, ওই লোকগুলোকে গ্রেফতার করতে হবে।’’
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর পরই সক্রিয় হয় পুলিশ। প্রকাশ্যে হেনস্থা, শান্তিভঙ্গের চেষ্টা, ধর্ম-জাতি-ভাষার ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরির চেষ্টা, ঘৃণা ছড়ানো-সহ একাধিক অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়। ওই রাতেই কলকাতার ক্ষেত্রমোহন নস্কর লেনের বাড়ি থেকে অতনুকে গ্রেফতার করে ভবানীপুর থানার পুলিশ। পরের দিন, শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। সোমবার তাঁর জামিনের আর্জি মঞ্জুর করল আদালত। অতনুর জামিনকে ‘সত্যের জয়’ হিসেবেই দেখছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়।
গত শুক্রবারই অতনুর আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেছিলেন, এই গ্রেফতারি ‘বেআইনি’। প্রতিবাদ করা সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে বলে আদালতে জানান তিনি। অন্য দিকে সরকারি আইনজীবীর সওয়াল ছিল, এই ঘটনা আসলে রাজ্যের সম্মান নষ্ট করেছে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে বিচারক সোমবার পর্যন্ত অতনুকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

