দেশ 

৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজকে গ্রেফতার করা হবে, দিল্লী পুলিশের প্রতিশ্রুতির পর ধরনা তুলল কংগ্রেস এবং সিজেপি, হত্যার চেষ্টার ধারায় মামলা

শেয়ার করুন

স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের গ্রেফতারির দাবিতে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা ঘেরাও করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও যুব কংগ্রেস। যুব কংগ্রেসের দিল্লির সভাপতি এবং সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস-সহ কয়েক হাজার সমর্থক পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় হাজির হন শুক্রবার সকালে। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আশ্বাস দিল পুলিশ। তারা জানিয়েছে, অভিযুক্ত সমাজমাধ্যম প্রভাবী স্বতন্ত্রের সম্প্রচারিত পডকাস্ট তদন্তের আওতায় আনা হবে। সিজেপি-র আইনজীবীর দাবি, অভিযুক্তকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে নিট বিক্ষোভের সময় যন্তর মন্তরে এক বিক্ষোভকারী নিশু আজ়াদের বাবার উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে সেই হামলার কথা স্বীকার করেন স্বতন্ত্র। সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই আবার নতুন করে উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে দিল্লি। স্বতন্ত্রের গ্রেফতারির দাবি তুলে শুক্রবার থানা ঘেরাও করে সিজেপি। থানার বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন সিজেপি সমর্থকেরা। এই বিক্ষোভে যোগ দেন কংগ্রেসের যুবনেতা, নির্দলীয় সাংসদ পাপ্পু যাদব। এ ছাড়াও ছিলেন আজ়াদ সমাজ পার্টি-র নেতা চন্দ্রশেখর আজ়াদ।

শেষ পর্যন্ত গতকাল নিশু আজাদ নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল গান্ধীর কাছে আবেদন করে বলেন একমাত্র আমাকে ইনসাফ দিতে পারেন রাহুল গান্ধী। তাই রাহুল গান্ধীর কাছে আমার বিশেষভাবে আবেদন তিনি যেন আমার পাশে দাঁড়ান। আমার বাবাকে যেভাবে মেরেছে ওরা তারপর যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই মারার বিষয়টি নিয়ে গর্ববোধ করে বিবৃতি দিয়েছেন এখনো পর্যন্ত দিল্লি পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করেনি। এই ঘটনার পর রাহুল গান্ধী পাল্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেন নিশু আজাদ বিচার পাবে।

এরপরই দিল্লি রাজনীতি তোলপাড় করতে থাকে। কংগ্রেসের নেতারা পার্লামেন্ট স্ট্রীট থানার সামনে ধননায় বসে যান। আর আজ সকালেই যুব কংগ্রেসের দিল্লির সভাপতি কয়েক হাজার সমর্থককে নিয়ে থানার সামনে হাজির হন অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাদের সঙ্গে যোগ দেন সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্গা এবং সৌরভ দাস । শেষ পর্যন্ত পুলিশ এফআইআর নিতে বাধ্য হয়েছে এবং হত্যার চেষ্টা ধারায় এফআইআর নেয়া হয়েছে অতএব কোনভাবেই স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ কে বাঁচানো যাবে না গ্রেপ্তার তাকে করতেই হবে।।

নিশু আজ়াদের বাবা সঞ্জয় কুমারের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য লাগাতার দাবি জানাচ্ছিল সিজেপি। কিন্তু তার পরেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। তবে সম্প্রতি অভিযুক্তের একটি ভিডিয়ো এবং সেখানে তাঁর স্বীকারোক্তিকে ঘিরে গ্রেফতারির দাবি আরও জোরালো হয়। অভিযুক্ত স্বতন্ত্রকে গ্রেফতার করা হবে কি না, সেই প্রশ্ন তুলে থানায় হাজির হয়েছেন সিজেপি নেতারা।

তাঁর গ্রেফতারির দাবি যখন জোরালো হতে শুরু করেছে, স্বতন্ত্র দাবি করেছেন, আত্মরক্ষার্থেই তিনি হামলা চালিয়েছেন। এনডিটিভি-তে নিজেকে ‘গোরক্ষক’ বলেও দাবি করেছেন স্বতন্ত্র। কী ভাবে হামলা চালিয়েছেন, কেন হামলা চালিয়েছেন, সেই কথাও উল্লেখ করেছেন স্বতন্ত্র। তাঁর কথায়, ‘‘আমাকে যদি আবার ও ভাবে ঘিরে ধরে মারার চেষ্টা হয়, তা হলে এই ধরনের কাজ করতে দ্বিতীয় বার ভাবব না। আবার কড়া দিয়ে মারব।’’

উল্লেখ্য, গত জুনে এক বিক্ষোভকারীর বাবাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে স্বতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার নিন্দা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থ হন সিজেপি-র নেতারা। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ