প্রস্তুতি শেষ বিকাশ ভবনের সংকেত পেলে তিন মাসেই টেট, শিক্ষা দফতরকে চিঠি দিয়ে জানালো পর্ষদ!
প্রস্তুতি সেরে রেখেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। সরকারি তরফে সবুজ সঙ্কেত পেলে তিন মাসের মধ্যেই টেট নিতে পারবে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, সম্প্রতি পর্ষদের তরফে স্কুলশিক্ষা দফতরে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
গত বছর সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছিল, ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষককে টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট (টেট) উত্তীর্ণ হতে হবে। রেহাই পাবেন শুধু প্রবীণ শিক্ষকেরা, যাঁদের অবসরের আর মাত্র পাঁচ বছর বা তার কম সময় বাকি। পরে এই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৮ করে শীর্ষ আদালত।
এরই মধ্যে স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে পর্ষদ ও স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয় কবে তারা টেট নিতে পারবে। তারই উত্তরে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে পর্ষদ।
শিক্ষকদের একাংশের দাবি, শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ কার্যকর হয় ২০১০-এ। সেই আইন অনুযায়ী বিধি তৈরি করে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার্স ট্রেনিং বা এনসিটিই। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের জুলাইয়ে শিক্ষকদের যোগ্যতা সংক্রান্ত নিয়ম চালু হয়। সেখানে টেট বাধ্যতামূলক করা হয়। তার আগে যাঁরা শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন, তাঁদের এই টেট-এর আওতায় আসার কথা নয়। শিক্ষকদের একাংশ আবেদন করেছিলেন, এই আইন কার্যকর হওয়ার আগে থেকে যে সকল শিক্ষক কর্মরত, তাঁদের এই নির্দেশের বাইরে রাখা হোক।
হিসাব বলছে, এই মুহূর্তে সারা দেশে ২০ লক্ষ শিক্ষক কর্মরত, যাঁরা টেট উত্তীর্ণ নন। এ রাজ্যে সেই সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি। শিক্ষার অধিকার আইন, আরটিই ২০০৯ এবং এনসিটিই ২০১০-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য টেট পাশ করা ন্যূনতম এবং বাধ্যতামূলক যোগ্যতা। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, টেট আবশ্যিক যোগ্যতা। কিন্তু সমস্যা হয়েছে ২০১১ পর্যন্ত শিক্ষকতায় নিযুক্তদের নিয়ে।
এই সমস্যা থেকে মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনও করা হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফে। কেন্দ্রের কাছে সংসদে অধ্যাদেশ জারি করে আইন সংশোধনের আর্জি জানিয়েছিলেন ডান থেকে বাম সব পক্ষের শিক্ষকেরা। যদিও সেই বিষয়ে কোনও সুরাহা হয়নি।

