আন্তর্জাতিক 

নেপাল-উত্তরাখণ্ডের মতো দুর্যোগে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে বড় ভরসা হতে পারে ড্রোন, আইইএমের ‘অ্যাভিওনিক্স ২০২৬’-এ উঠে এল প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনা

শেয়ার করুন

কলকাতা, ২৯ আগস্ট: পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান, ভূমিধস, ভূমিকম্প বা আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছনোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। রাস্তা ও সেতু বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত মানুষের কাছে দ্রুত খাবার, ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াও কঠিন হয়। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে ড্রোন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা।

কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টে (আইইএম) অনুষ্ঠিত ‘অ্যাভিওনিক্স ২০২৬’ ড্রোন প্রতিযোগিতাকে ঘিরে সেই সম্ভাবনাই নতুন করে সামনে এসেছে। ২৮ ও ২৯ আগস্ট আইইএম ম্যানেজমেন্ট বিল্ডিংয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় পড়ুয়ারা ড্রোনের নকশা, ফ্লাইট কন্ট্রোল, নির্ভুলতা, পাইলটিং এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন।

বক্তারা জানান, নেপাল বা উত্তরাখণ্ডের মতো পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্যোগের সময় ড্রোনের মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। আকাশ থেকে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে কোথায় ধস নেমেছে, কোন এলাকায় মানুষ আটকে রয়েছেন কিংবা কোথায় ত্রাণ পৌঁছনো জরুরি, তা দ্রুত চিহ্নিত করা যেতে পারে। থার্মাল সেন্সর যুক্ত ড্রোনের মাধ্যমে রাতেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান চালানো সম্ভব। দুর্গম এলাকায় ওষুধ, খাবার ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ড্রোন কার্যকর হতে পারে।

পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ড্রোনের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে পাহাড়ের ফাটল, মাটির সরে যাওয়া বা অন্যান্য ঝুঁকির সংকেত আগেই শনাক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে পার্বত্য অঞ্চলে নিয়মিত ড্রোন নজরদারি চালানো গেলে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত উদ্ধারকাজও সম্ভব হতে পারে।

‘অ্যাভিওনিক্স ২০২৬’-এর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা প্রফেসর (ড.) দ্বৈপায়ন দে, প্রফেসর (ড.) রাহুল বৈদ্য, ড. অবন্তী দত্ত, ড. অপরাজিতা মুখোপাধ্যায়, ড. শুভ মুখোপাধ্যায় এবং প্রফেসর ঋতুপর্ণা বিশ্বাস – রা সকলেই মনে করেন পার্বত্য অঞ্চলে এআই ও ড্রোনের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি চালালে এই ধরনের বিপর্যয়ে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যাবে।

এই প্রতিযোগিতা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতাকে আরও উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতের আনম্যানড এরিয়াল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ